নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে ডিম ও মাংস চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়। শুধু দুধের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় একটু কম। জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, বছরে যশোরে ডিমের চাহিদা ২৮ কোটি ৭৫ লাখ। উৎপাদন ৪৮ কোটি ৩৩ লাখ। মাংসের চাহিদা ১.২১ লাখ মেট্রিকটন। উৎপাদন হয় ১.৪০ লাখ মেট্রিকটন। দুধের চাহিদা ২.৫২ লাখ মেট্রিকটন। উৎপাদন হয় ২.২৭ মেট্রিক টন।
যশোর শহরের শংকরপুরে ভেটেরিনারী পশু হাসপাতালে দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত প্রাণি সম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে এতথ্য জানানো হয়।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারী পশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে হাসপাতাল চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রাণি সম্পদ প্রযুক্তি ক্যাটাগরীতে প্রথম হয়েছে আফিল এগ্রো লিমিটেড।
প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করেন যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃষকদের বিনামূল্যে সার বীজ প্রদান করার কারনে কৃষি উৎপাদন ভাল হচ্ছে। মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য যোগান দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষির কোন বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেছেন এক সময় ছিল গরু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতো। গরুর মালিক পশু চিকিৎসকের অভাবে তার গরুকে বাঁচাতে পারতো না। আবার সেটি মরে গেলে কোন জায়গায় ফেলতে সমস্যায় পড়তে হতো। এখন প্রাণি সম্পদ দফতরের কারনে কোন গরু রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন এক সময় পশু চিকিৎসকের সংকট ছিল। কোন পশু রোগ আক্রান্ত হলে কয়েক মাইল বাইসাইকেল চালিয়ে চিকিৎসককে ডেকে আনতে হতো। চিকিৎসক আসতে না আসতে পশু মারা যেতো। এখন আধুনিক যুগে প্রাণি সম্পদ দপ্তরে জানালে পশু চিকিৎসা সহজেই করানো যাচ্ছে।
আফিল গ্রুপের পরিচালক ও দৈনিক স্পন্দনের নির্বাহী সম্পাদক মাহাবুব আলম লাবলু বলেন, কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রে অবদান রাখা আফিল এগ্রো ও এগ্রিকালচার গ্রুপ ৫বার স্বর্ণ ও রোপ্য পদক পেয়েছে।
তিনি বলেণ, আফিল এগ্রো লিমিটেডের ফার্মে প্রতিদিন চার লাখ ডিম, এক লাখ মুরগীর বাচ্চা ও ১ লাখ কেজি মাংস উৎপাদন হয়। যা যশোরবাসির আমিষের চাহিদাপূরণসহ দেশের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। এ সরকার কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন। লোন দিয়ে খামারিদের সহায়তা করছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাশের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদুল হক। এসময় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা।
পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন, প্রাণি সম্পদ প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় এসিডি আই ভোকা ও তৃতীয় এসিআই জেনেটিক্স। বড় প্রাণি ক্যাটাগরিতে প্রথম এসএস ডেইরী ফার্ম, দ্বিতীয় এ আর এগ্রো,তৃতীয় জয়নাল ডেইরী ফার্ম। ছোট প্রাণি ক্যাটাগরিতে প্রথম আহনাফ এগো ফার্ম, দ্বিতীয় শরিফুল ইসলাম মনু, তৃতীয় অভিজিৎ রায়। সৌখিন পাখি ক্যাটাগরিতে প্রথম এবি পেট শপ, দ্বিতীয় ফারহান পেটস গ্যালারী ও তৃতীয় হয়েছে যশোর পেট শপ। দিন ব্যাপি পশু প্রদর্শনীতে ৩০টি স্টল বসানো হয়।

