নিজস্ব প্রতিবেদক:
“আমি কন্যাশিশু, স্বপ্ন গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। এ উপলক্ষে বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কালেক্টরেট সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসরিন পারভীন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রওশন আরা বেগম প্রমুখ।

অপর দিকে দিবসটি উপলক্ষে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শিশু কন্যা সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার রওনক জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন,“জাতীয় কন্যাশিশু দিবস সমাজে নারীও কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদাও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাববার একটি সুযোগ এনে দেয়। আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারী ও পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একে অপরের সহযোগী ও পরিপূরক শক্তি।”
তিনি আরও বলেন,“অনেক নারী মানসিক চাপে ভোগেন কারণ তাঁরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা মানসিক সুস্থতার প্রথম ধাপ। নিজের অধিকারের কথা বলা কোনো অপরাধ নয়—বরং এটি নিজের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ।”
রওনক জাহান বলেন, “আমরা চাই আমাদের কন্যাশিশুরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বড় হোক, নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সাহস অর্জন করুক। তাদের জন্য এমন একটি সমাজ তৈরি করতে হবে, যেখানে নিরাপত্তা, সম্মান, শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত থাকবে। নারী ও পুরুষ একে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমেই মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
আলোচনা শেষে কন্যাশিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

