শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে বিএনপি ও জামায়াতের ৩৭ নেতার বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা, গ্রেফতার-৯

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় জনৈক ইয়াকুব মিয়ার আবাসন প্রকল্পের অদূরে রাস্তার উপর ও সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রুপদিয়া গ্রামে যশোর খুলনা মহাসড়কের রুপদিয়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সামনে কথিত বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীরা নাশকতা মূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে ৩৭ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় বুধবার ৪ অক্টোবর সকালে আলাদা দু’টি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৩ ও ১৪।
পুলিশ দু’টি মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। এরা হচ্ছে,যশোর শহরের পুর্ব বারান্দীপাড়া ( মেঠোপুকুরের পাড়) মৃত আবুল হোসেনের ছেলে বাবু,সদর উপজেলার হাটবিলা গ্রামের সুলতানের ছেলে সুমন, চুড়ামনকাটি উত্তরপাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান, সদর উপজেলার ছোট বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে রাসেল হোসেন, সদর উপজেলার রুপদিয়া গ্রামের খালেক সরদারের ছেলে ইকরামুল সরদার, একই গ্রামের মৃত আবু জাফর খানের ছেলে লাইছ খান, জিরাট গ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে সরোয়ার হোসেন, সাড়াপোলের ইছাহাক আলী গাজীর ছেলে আলী কদর ও যোগীপাড়া গ্রামের মৃত আফসার মোল্লার ছেলে জসিম শেখ।গ্রেফতারকৃতদের দখল হতে ককটেল,বাঁশের লাঠি,লোহার তৈরী জালের কাঠি,জর্দ্দার কৌটা,ইটের টুকরো,স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বুধবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

একটি মামলার বাদি কোতয়লি থানার এসআই শরীফ আল মামুন উল্লেখ করেন,মঙ্গলবার দিবাগত রাত্রীকালীন মোবাইল-১৩ ডিউটি কালীন ৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ৬ টার পর গোপন সূত্রে খবর পান সরকারের চলমান উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্থ করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে হামলা,গাড়ী ভাংচুর,ক্ষতিসাধনসহ জনমনে আতংক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড় জনৈক ইয়াকুব মিয়া এর আবাসন প্রকল্পের মাঝ বরাবর ইটের সলিং রাস্তার উপর কতিপয় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে অর্ন্তঘাতমূলক হামলা করার জন্য লাঠি সোটা,ইটপাটকেল ও ককটেল/বোমা নিয়ে অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে মোবাইল-১৪সহ পুলিশের কয়েকটি টিম নিয়ে সকাল সাড়ে ৬ টায় উক্ত স্থানে পৌছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্ষুদ্ধ বিএনপি’র নাশকতাকারী লোকজন ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে দিক-বিদিক ছুটোছুটি করে পালানোর চেষ্টা করার এক পর্যায় বাবু, সুমন, মেহেদী হাসান, রাসেলকে ৪টি ককটেল সাদৃশ্য হাত বোমা,বাঁশের লাঠি,ইটের টুকরো,জ¦ালের কাঠি,স্যান্ডেলসহ গ্রেফতার করে। এ সময় সহযোগী হামিদপুরের শফিকুল,জুম্মান, চুড়ামনকাটি মেহেদী হাসান বাচ্চু, বাগডাঙ্গার ফিরোজ হোসেন, ফুলবাড়ীর একরামুল হোসেন, মধুগ্রামের আজাদ,কিসমত নওয়াপাড়া সিরাজ উদ্দিন, এড়েন্দার নূরুন্নবী বিশ্বাস, উপশহর বি ব্লকের কাজী ফিরোজ আহম্মেদ,উপশহর ই ব্লকের এস এম হাফিজ শরীফ, সদর উপজেলার সাড়াপোল বাজারপাড়ার মাসুদ গাজী, চাঁচড়া গোলদার পাড়ার মেহেদী হাসান তোতা, বালিয়া ভেকুটিয়ার বাবলু, নরেন্দ্রপুর খন্দকার পাড়ার ফারুজ্জামান রাসেল, বলরামপুরের নাজমুল হোসেন, ও হাটবিলা জামতলার নূরুল হকের ছেলে আফজাল হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরো অনেকে পালিয়ে যায়।

অপরদিকে,নরেন্দ্রপুর নরেন্দ্রপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হাচান বাদি হয়ে মামলায় উল্লেখ করেন, ৪ অক্টোবর রাত্রীকালীন অভিযান চালানোর এক পর্যায় সকালে গোপন সূত্রে খবর পান যশোর খুলনা মহাসড়কের রুপদিয়া গ্রমস্থ রুপদিয়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদেও সামনে পাকা রাস্তার উপর কতিপয় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে অর্ন্তঘাতমূলক হামলা করার জন্য লাঠি সোটা,ইটপাটকেল ও ককটেল/বোমা নিয়ে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সকালে সেখানে পৌছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা নাশকতাকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ইকরামুল সরদার, লাইছ খান, সরোয়ার হোসেন,আলী কদর ও জসিম শেখকে ককটেল,লাঠিসোটা,নাশকতা কর্মকান্ড করার সরাঞ্জামসহ গ্রেফতার করে। এসময় তাদের সহযোগী সদর উপজেলার নালিয়ার মতিয়ার, মনির,দোগাছিয়ার ইব্রাহীম হোসেন, হাশিমপুরের শওকত হোসেন, মনোহরপুরের রাজু শেখ, বালিয়া ডাঙ্গা মাসুদ, চান্দুটিয়ার বিদ্যুৎ বিশ^াস, উপশহর ৩নং সেক্টরের ইব্রাহীম,উপশহর বি ব্লকের জয়নাল চৌধুরী জনি, ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার আতাউর রহমান, সুজলপুরের স্বপন, শামসুল পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের ফেলে যাওয়া বিস্ফোরক ও সরাঞ্জাম নিয়ে থানায় হাজির হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ