শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে ভয়ংকর দুর্ঘটনায় ঘাতক বাসের ড্রাইভারের আত্মসমর্পণ

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর মাগুরা সড়কের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ঘাতক বাসের ড্রাইভার মিজানুর রহমান আত্মসমর্পণ করেছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় কোতোয়ালি মডেল থানার তিনি আত্মসমর্পন করেন। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইপ পাড়ার নজরুর শেখের ছেলে। তার দাবি  তিনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। ইজিবাইকচালক হঠাৎ তার বাসের সামনে চলে আসায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোছাইন জানিয়েছেন, চালক মিজানকে দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটক দেখানো হয়েছে এবং আগামীকাল রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

আটক মিজানুর রহমান মিজা যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সীমাখালি এলাকার বাসিন্দা।

উল্লেখ্য, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের হেলাল মুন্সির মেয়ে খাদিজার চিকিৎসার জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান- খাদিজা, হাসান, হোসেন, শাশুড়ি মাহিমা, খালা শাশুড়ি রাহিমা ও তার মেয়ে জেবা। ইজিবাইকযোগে যশোরে যাবার পথে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের লেবুতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীতমুখি রয়েল পরিবহনের একটি বাস বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় ইজিবাইকটিকে সামনা সামনি ধাক্কা দেয় এবং ঠেলে নিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে।

এসময় বাসটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেল চালককেও ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকচালক মুসা, একই পরিবারের ৫ জনসহ মোট ৭ জন মারা যান।

এছাড়া আরো তিনজন আহত হন। যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত হাসান-হোসেনের নানা ছোটন মুন্সি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা বাসচালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘাতক চালককে আটকের জন্য অভিযান শুরু করে। একই সাথে শ্রমিক নেতাদের এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য আহবান জানানো হয়। এরপর শ্রমিক নেতারা শনিবার সন্ধ্যায় বাসচালক মিজানুর রহমান মিজাকে থানায় নিয়ে আসেন।

এদিকে লেবুতলা বাজারে বেপরোয়া গতির চলন্ত বাসের চাপায় ৭জন নিহতের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার যাদবপুর মুন্সিপাড়ার আব্দুল মান্নান মুন্সির ছেলে ছোটন হোসেন রয়েল ডিলাক্স নাম বাসের (ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-৩৮৭৬) চালকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

এজাহারে ছোটন হোসেন উল্লেখ করেছেন, গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৬টার দিকে খাজুরা বাজার থেকে ইজিবাইক চালক ইমরান হোসেন মুন্নাকে সাথে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা যশোরে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে খাজুরা বাজারে পৌছালে রয়েল ডিলাক্সের ওই বাস বেপরোয়া গতিতে এসে ইজিবাইকের সামনে এসে ধাক্কায় দেয়। এতে ইজিবাইকটি বাসের নিচে পড়ে যায়। এবং বাসটিও উল্টে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই তার তার ভাবি মাহিমা (৪৫), ভাতিজি সোনিয়া (২৫), ভাবির বোন ফাহিমা (৩৫), ফাহিমার মেয়ে জেবা (৭), ভাতিজির দুই ছেলে হাসান (৭) ও হোসাইন (৩), তার পুতনি ফাতিমা (৫) মারাত্মক জঘম হয়। এবং মাহিমা, ফাহিমা ও হাসান মারা যায়। আহত অবস্থায় জেবা, ইমরান, মুন্না, হোসাইন, ফাতিমা ও সোনিয়াকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে জেবা, মুন্না, হোসাইন ও ইমরান মারা যায়। এবং সোনিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। তিনি ঘটনা শুনে সেখানে যান এবং বেপারোয়া গতির বাসের ধাক্কায় তার পরিবারের সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানতে পারেন। ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ বাসটি হেফাজতে নিয়েছে।
যশোর পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু জানিয়েছেন, লেবুতলায় যে ঘটনা ঘটেছে তার মার্মান্তিক ও হৃদয় বিদায়ক। এই ঘটনার সাথে বাস চালক জড়িত কি-না তা তদন্ত করছে পুলিশ। পুলিশকে সহযোগিতার জন্য বাস চালক মিজানুর রহমানকে তাদের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় সংগঠনের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হারুন অর রশিদ ফুলু, যশোর বাস মালিক সমিতির সহসভাপতি সরোয়ার হোসেন, খাজুরা বাস মালিক সমিতির সভাপতি তারেক হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুর রহমান,শ্রমিক নেতা আবু হাসানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ