সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোরে মাছ রপ্তানিতে আয় ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার

আরো খবর

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরে গত অর্থবছরে ব্যাপক পরিমাণ মাছ উৎপাদন হয়েছে, যা জেলার মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গেছে। কেবল দেশে না, বিদেশেও রপ্তানি হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যশোরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৮ দশমিক ১৪ মেট্রিকটন। এরমধ্যে জেলায় চাহিদা ছিল ৬৫ হাজার ৫৮৯ মেট্রিকটন। উদ্বৃত্ত ছিল একলাখ ৫৯ হাজার ২৬৯ দশমিক ১৪ মেট্রিকটন। একইসাথে গত অর্থবছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৯ হাজার ৩০১ দশমিক ৮৯ মেট্রিকটন মাছ রপ্তানি হয়। যা থেকে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ১৫৫ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মেদ। লিখিত তথ্যে জানানো হয়েছে, যশোরে মোট ৭২ হাজার ১৫৫ দশমিক ১৭ হেক্টর জলাশয় রয়েছে। ৮৮ হাজার ৭৬২ জন মৎস্য চাষি উল্লেখিত পরিমাণ মাছ উৎপাদন করেন। জেলায় ৩ হাজার ৪৫৩ জন মৎস্য বিক্রেতা ও এক হাজার ১৫৫ জন পোনা বিক্রেতা রয়েছেন।

এ জেলায় কার্প জাতীয় মাছের রেণু উৎপাদন হয় ৬৯ দশমিক ২৮ মেট্রিকটন। চাহিদা রয়েছে ১৮ দশমিক ৯০ মেট্রিকটনের। উদ্বৃত্ত ৫০ দশমিক ৩৮ মেট্রিকটন রেণু জেলার বাইরে যায়। এর বাইরে রুই জাতীয় মাছ একলাখ ৫৩ হাজার ২০৪ দশমিক ৬৯ মেট্রিকটন, পাঙ্গাস ১৫ হাজার ৫৩৯ দশমিক ১০ মেট্রিকটন, তেলাপিয়া ২৫ হাজার ৬৪০ দশমিক ৪৭ মেট্রিকটন, কৈ এক হাজার ৩০২ দশমিক ৪৮ মেট্রিকটন, শিং ও মাগুর এক হাজার ৪১ দশমিক ০৯ মেট্রিকটন, গুলশা ৮১৭ দশমিক ৫৬ মেট্রিকটন, পাবদা ৯৮২ দশমিক ০৭ মেট্রিকটন, গলদা চিংড়ি ৮ হাজার ৭৯ দশমিক ৮১ মেট্রিকটন, বাগদা চিংড়ি ৩৫৪ মেট্রিকটন এবং অন্যান্য মাছ ১৭ হাজার ৮৯৭ দশমিক ১৪ মেট্রিকটন উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া, মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা ৮০২ দশমিক ২০ লাখ ও কার্প জাতীয় পোনা ১৪ হাজার ১১৮ দশমিক ৭৭ লাখ উৎপাদন হয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন। যশোর থেকে যেসব মাছ রপ্তানি হচ্ছে তার মধ্যে পাবদা, পারশে, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, কৈ, টেংরা ও গজার অন্যতম। এসবের মধ্যে ৭০ শতাংশ রপ্তানি হচ্ছে পাবদা মাছ।

মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে : শনিবার মাইকিংসহ প্রচারণা, রোববার র‌্যালি ও আলোচনাসভা, সফল মাছ চাষিকে পুরস্কার প্রদান, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সোমবার প্রান্তিক পর্যায়ে মৎস্য চাষি ও মৎস্যজীবীদের সাথে মতবিনিময়, মঙ্গলবার অবৈধ জালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বুধবার মাছ চাষ বিষয়ক বিশেষ পরামর্শ প্রদান, পুকুরের মাটি ও পানি পরীক্ষা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, বৃহস্পতিবার সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ প্রদান এবং শুক্রবার মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর মৎস্য গবেষণা উপকেন্দ্রের প্রধান, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মেদ, সদর উপজেলা সিনিয়র সাইদুর রহমান প্রমুখ।

এদিকে, যশোরে মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ছয়টি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছে মৎস্য বিভাগ। প্রতিবন্ধকতাগুলো হচ্ছে, মাঠ পর্যায়ে জনবল সংকট, জেলা পর্যায়ে যানবাহনের অপ্রতুলতা ও উপজেলা পর্যায়ে একেবারে না থাকা, মৎস্যখাতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য বেশি, চিংড়ি সম্পদ উন্নয়নে কোনো প্রকল্প না থাকা, মাটি ও পানি পরীক্ষা ক্যাম্প পরিচালনার ব্যবস্থা না থাকা এবং প্রণোদনামূলক ঋণ ও কার্যক্রম না থাকা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ