ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:যশোরে এক মাস আগে ইজিবাইক চুরি নিয়ে বিরোধের জের ধরে চঞ্চল মাহমুদ (৩০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দৃর্বৃত্তরা। এসময় তাদের হামলায় আরো তিনজন গুরুতর জখম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১ টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। নিহত চঞ্চল মাহমুদ ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে।
আহতরা হলেন, চঞ্চলের পিতা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন। ডাকাতিয়ার আলোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী চক্র চঞ্চলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো, চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম, তার চক্রের সদস্য বিল্লাল হোসেন ও মুন্না।
নিহত চঞ্চলের ছোট ভাই তুহিন গাজী জানিয়েছে, গত এক মাস আগে ডাকাতিয়া গ্রামের মধু গাজীর ছেলে চঞ্চল মাহমুদের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এবং ভুক্তভোগী চঞ্চল এলাকার আলোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম গংকে সন্দেহ করে এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে ইজিবাইকটি ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল।
এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মধু গাজীর বাড়িতে রবিউলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় প্রথমে ছেলে চঞ্চলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে রবিউলের লোকজন। চঞ্চল মাহমুদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঠেকাতে আসলে তার বাবা মধু গাজী মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিনকে কুপিয়ে জখম করে তারা।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারী চক্র চলে যায়। স্থানীয় লোকজন মাটিতে লুটিয়ে পড়া চঞ্চল মাহমুদ, তার বাবা মাধু গাজী, ছোট ভাই তুহিন ও মা হাসিনা বেগমকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চঞ্চল মাহমুদকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর জখম মধু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান।
এদিকে এই হামলা ও হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোর কোতোয়ালি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল এলাকায় খোঁজখবর নেন এবং হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম, তার সহযোগী মুন্না ও বিল্লালকে আটক করা হয়।

