নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদরে পেছন থেকে আসা দ্রুত গতির একটি বাসের চাপায় ইজিবাইকের চালকসহ সাত যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের লেবুতলা তেঁতুলতলা এলাকার যশোর-মাগুরা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন- ইজিবাইক চালক যশোর সদরের সুলতানপুরের সাইফুলের ছেলে ইমরান হোসেন (২৭), বাঘারপাড়ার যাদবপুরের বাসিন্দা হেলালের জমজ ছেলে হোসেন (২) ও হাসান (২), তার মেয়ে খাদিজা (৭), ও হেলালের মা মাহিমা (৬০)। অপর নিহত হলেন- একই গ্রামের বাবুল মুন্সির স্ত্রী ফাহিমা খাতুন (৩০)। নিহত অপর জনের পরিচয় জানা যায়নি।
জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, যশোর থেকে একটি ইজিবাইক আটজন যাত্রী নিয়ে লেবুতলা বাজারের দিকে আসছিল। তেঁতুলতলা নামক স্থানে পৌঁছে ইজিবাইকটি ডানের একটি বাইপাস সড়কে নামার চেষ্টা করে। এসময় পেছন থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাস ইজিবাইকটির উপরে উঠে যায়। স্থানীয় লোকজন বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গাড়িটিতে রাস্তার পাশে উল্টিয়ে দিয়ে বাসের তলা থেকে ৪ জনের মহ দেহ ও আহত ৩ জনকে উদ্ধার করেন। আহতদের মধ্যে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুজন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। তাদের গ্রেফতারের অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান রাতে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতলে ছুটে যান। তিনি নিহতদের সৎকার ও আহতদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, লেবুতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইক চালকসহ আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ইজিবাইকটি পুলিশ জব্দ করেছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসিফ মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

