নিজস্ব প্রতিবেদক::
২৩১ অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধে রোববার থেকে অভিযান, বেঁধে দেয়া সময় পার হচ্ছে আজ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ জেলার ৮ উপজেলায় অনিবন্ধিতি ক্লনিক,হাসপাতাল ও ডায়গনিস্ট সেন্টার বন্ধে অভিযান শুরু করেছে।ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ নাজমুস সাদিকের নেতৃত্বে,সদর উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর আবু মাউদসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কমর্কর্তা এই অভিযানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য,যশোরে ২৯১ টি বেসরকারি ক্লিনিক,হাসপাতাল ও ডায়গনিস্ট সেন্টার রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৫ টি ক্লিনিক স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেক বন্ধ করে দেয়া হয়।আজ শনিবার যশোর শহরের ৫টি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয় যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিল্লাল হোসেন : যশোর জেলায় মাত্র ৩২ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স আছে। আর হালনাগাদ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ২০১ টি। এই তথ্য নিশ্চিত করে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক জানান, অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে রোববার থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুক্রবার উপজেলা ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ৭২ ঘন্টার মধ্যে অনিবন্ধিত ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতাল বন্ধ করতে। আজ পার হচ্ছে বেঁধে দেয়া সেই সময়।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় মোট ২৮৮ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবিকা না থাকা, নিন্মমানের অস্ত্রোপচার কক্ষ, প্যাথলজি বিভাগ নোংরা পরিবেশ ছাড়াও পরীক্ষার নামে মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়, অনুমোদনের চেয়ে অতিরিক্ত বেড ব্যবহার ও অপচিকিৎসা এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্সের কারণে বিগত দিনে সাবেক সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে জেলার ৫৫ টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়।
সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান জানান, জেলায় ৫৫ টি সিলগালার পর বর্তমানে ২৩৩ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিগত দিনে সিলগালা হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তিনি আরও জানান, সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব ছাড়াও জেলায় ১০২ টি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বলে তথ্য মিলেছে। তবে এগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। নিম্মমানের এসব প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম ও ত্রুটির মধ্যে রোগীর অস্ত্রোপচার, চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অথচ মানসম্মত যন্ত্রপাতি বা ল্যাব টেকনোলজিস্ট নেই কারো। মূলত ব্যবসার ফাঁদ পেতে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা করা হচ্ছে।
এদিকে,বিগত দিনে বন্ধ ঘোষণা করা ৫৫ টি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অধিকাংশই চালু রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকা এবং মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে তারা এই সাহস দেখাচ্ছেন। বন্ধ ঘোষণার পরও এসব অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চলার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। অনেকেই বলছেন অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নামে আইওয়াশ করা হয়েছে।
যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ নাজমুস সাদিক জানান,এই অভিযান চলমান থাকবে।রোববার জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্ব এক সভা হবার কথা রয়েছে।সেখানে বাকি ক্লিনিকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।
অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে অভিযানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা পেয়েছি। সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তির নেতৃত্বে রোববার থেকে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ দেয়া হবে না।
একাত্তর/কামাল

