শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোর ও কেশবপুরে ধানকাটতে গিয়ে স্কুল শিক্ষকসহ দু’জনের মৃত্যু

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক/কেশবপুর প্রতিনিধি:
যশোরে উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচন্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে ধানকাটতে গিয়ে শিক্ষকসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে সদর উপজেলায় আহসান হাবিব (৩৫) নামে এক শিক্ষক এবং দুপুরে কেশবপুরে অপর এক কৃষক মারা গেছেন।
আহসান হাবিব যশোর সদর উপজেলার আমদাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক এজেডএম মাসুদ পারভেজ জানান, সকালে মাঠে ধান কাটতে যান শিক্ষক আহসান হাবিব। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এরপর পরিবারের লোকজন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকায় কেউ কেউ এটিকে হিটস্ট্রোক বলে অপ্রচার করছে।
তবে, চিকিৎসকরা এটিকে সাধারণ স্ট্রোক বলে দাবি করেছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাসিব মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, হিটস্ট্রোকে যে ধরনের লক্ষণ থাকে তা ছিল না। এটা সাধারণ স্ট্রোক জনিত মৃত্যু।
কেশবপুর প্রতিনিধি জানান, কেশবপুরে প্রচন্ড গরমের মধ্যে ক্ষেতের বোরো ধানের বিচালি বেঁধে কাঁধে করে বাড়িতে নিয়ে আসার পরেই জোহর আলী সরদার (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের কৃষক জোহর আলী সরদার বাড়ির পাশে বড় বিলে নিজ জমিতে কেটে রাখা ধানের বিচালি বাঁধতে যান। বিচালি বাঁধা শেষে কাঁধে করে একবার ধান বাড়িতে আনার পরেই পরিবারের লোকজনের নিকট পানি খেতে চান। পানি দেওয়া হলেও খাওয়ার আগেই তিনি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন। ওইসময় পরিবারের লোকজন টের পেয়ে তাঁকে নিয়ে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাকে বলে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ আলমগীর বলেন, মৃত অবস্থায় ওই কৃষককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পচন্ড গরমের মধ্যে হয়তো স্ট্রোক জনিত কারণে তার মৃত্যু হতে পারে।

মৃত্যুর বিষয়ে কৃষক জোহর আলীর ছেলে জসীম উদ্দীন বলেন, আমার পিতা মাঠ থেকে বাড়িতে ধান আনার পরেই পানি খেতে চান। পানি দেওয়া হলেও তিনি পানি খেতে পারেননি। প্রচন্ড গরমে তিনি হয়তো হিটস্ট্রোক করে মারা গেছেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ