বুধবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অব্যবস্থাপনা:বন্দিদের মাঝে চড়া মূল্যে খাবার বিক্রির অর্থ যাচ্ছে কোথায়

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি:
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের নিয়ে রীতিমত ব্যবসা করছে কারাগারের জেলার। তিনি বন্দিদের জন্য স্থাপিত ক্যান্টিনের মাধ্যমে বন্দিদের পিসি’র মাধ্যমে প্রতিমাসে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চড়া মূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করে।

এখানে সম্প্রতি ৪ পিস টমেটো ৪০টাকা, ৪পিস গাজর ৪০ টাকা, ছোট সাইজের ১পিস কলা ১০ টাকা,১টি সিঙ্গাড়া ২০ টাকা বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।এখানে অসহায় ও গরীব পরিবারকে ক্যান্টিনকে পুঁজি করে অর্থ নৈতিকভাবে পঙ্গু করে ফেলা হচ্ছে।

 

এখানে বন্দিদের জন্য স্থাপিত ক্যান্টিনে যে চড়া মূল্যে খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয় তা সম্প্রতি অত্র কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নামক প্রকাশ না করার শর্তে এক বন্দি এ খবর ফাঁস করে দিয়েছে। তিনি কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের জন্য প্রতিদিন তিনবেলা বরাদ্ধকৃত খাবার সরবরাহ ও বন্দিদের জন্য স্থাপিত হাসপাতালের কার্যক্রম নিয়ে রীতিমতো সংশয় প্রকাশ করেছেন। ভিতরের ক্যান্টিন ব্যবসা ও হাসপাতাল দেখভালের দায়িত্বে প্রধান হিসেবে রয়েছেন জেলার ।

তিনি প্রতিমাসে ক্যান্টিনের বেচাকেনা থেকে বড় অংকের উৎকোচ নিজের পকেটে নিচ্ছে। অথচ এই ক্যান্টিনের কারণে নিন্মবিত্ত ও মধ্য বিত্তের পরিবারের পুরুষেরা তাদের আত্মীয় স্বজনকে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ পিসিতে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি করে থাকে। পিসিতে টাকা না দিলে বন্দি হাজতী ও কয়েদীরা তাদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে দূর্ব্যবহারসহ নানান ধরনের হুমকী ধামকী প্রদান করে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বন্দিদের ক্যান্টিনে খাবারের মান সরকার কর্তৃক প্রদত্ত খাবারের চেয়ে উন্নত থাকায় সরকারিভাবে বন্দির জন্য বরাদ্ধের খাবার অনেকে না খাওয়ায় কারাগারের জেলার ও তার মনোনিত ব্যক্তিদের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা। তার কারন বন্দিদের জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত খাবারের সিংহভাগই বিভিন্নভাবে অর্থের বিনিময় বিক্রি হচ্ছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছেন।

এরজন্য জেলার ও তার মনোনীত ব্যক্তি অধিক লাভের আশায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছে। তাই অবিলম্বে কারের ভিতরে বন্দিদের জন্য স্থাপিত ক্যান্টিন ব্যবসা বন্ধ করে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত খাবার সঠিকভাবে সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন বন্দিদের অনেকের পরিবার।

 

মুক্তি পাওয়া বন্দি জানিয়েছেন,যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে শুধু মাত্র বন্দিদের জন্য গড়ে তোলা ক্যান্টিনের ব্যবসা রমরমা। একজন বন্দি কারাগারে প্রবেশের সময় পিসি (পার্সোনাল কার্ড) তৈরী করা হয়। যে কার্ডে হাজতী কিংবা কয়েদী বন্দির উদ্দেশ্যে তাদের আত্মীয়স্বজনের দেওয়া অর্থ জমা হয়। যে কার্ডের মাধ্যমে বন্দি হাজতী ও কয়েদী আসামীরা কারাগারের অভ্যন্তরে ক্যান্টিন থেকে ইচ্ছা মাফিক খাওয়া দাওয়া করে পিসি কার্ড দিয়ে পন্য মূল্যর অর্থ কেটে নিয়ে থাকেন। একজন বন্দির পিসি কার্ড তার নিজের কাছে রাখা হয়।

 

কারাগারে ভিতরে বন্দিদের স্থাপিত ক্যান্টিনে বর্তমানে ৪পিস টমেটো ৪০ টাকা,৪পিস গাজর ৪০ টাকা,১পিস ছোট সাইজের পাকা কলা ১০ টাকা,১পিস সিঙ্গাড়া ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি মালামাল বাইরে থেকে কয়েকগুন বেশী দরে বিক্রির কথা জানিয়েছেন। এই ক্যান্টিনে প্রতিমাসে নূন্যতম ১২ থেকে ১৫ লাখ অনেক সময় আরো অধিক টাকা বেচাকেনা হয়ে থাকে।

১লাখ টাকা খাদ্যপন্য বন্দিদের ক্যান্টিনে বিক্রি হয় ৭ থেকে ১০ লাখ টাকায়। সূত্রগুলো জানিয়েছেন,এই ক্যান্টিন পরিচালনার জন্য কারাগারে কর্মরত দু’জন রক্ষি দায়িত্ব পালন করেন। জেলার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব বন্টন করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এই ক্যান্টিনে প্রতিমাসে ১২ থেকে ১৫লাখ টাকা কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

 

এছাড়া,কারাগারের ক্যান্টিনে আরো বিক্রি হয় ১ টুকরো গরুর মাংস দেড়শ’ টাকার অধিক। আরো জানাগেছে,কারাগারে বন্দিদের জন্য তিন বেলা যে পরিমান খাবার সরবরাহ করা হয় তার মান খুব শোচনীয়। এখানে গরীব অসহায়দের জন্য জোটে সরকার কর্তৃক বরাদ্ধকৃত খাবার। এখানে প্রতিদিন সকালে ১টি রুটির সাথে হালুয়া বা সবজি (ভকম) দেয়া হয়।

 

দুপুরে ভাতের সাথে দেয়া হয় পাতলা ডাল ও সবজি (ভকম) ও সন্ধ্যায় ভাতের সাথে দেয়া হয় পাতলা ডাল ও সবজি(ভকম)। তবে সপ্তায় মাছ জোটে সিলভার কার্প ও তেলাপিয়া। তবে বন্দিদের জন্য যে মাছ ও মাংস বরাদ্ধ রয়েছে তা যথাযথ ভাবে দেয়া হয়না বলে অভিযোগ করেন বর্তমানে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েদী ও হাজতী বন্দিরা। অপর সূত্রগুলো জানিয়েছেন,এই কারাগারে বন্দিদের জন্য স্থাপিত হাসপাতাল চলছে অন্য স্টাইলে। এখানে একজন বন্দিকে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে প্রথমে গুনতে হয় ১০ হাজার টাকা ।

এরপর তাকে প্রতিমাসে হাসপাতালে বিছানায় থাকতে হলে ৪ হাজার টাকা হারে গুনতে হয়। তাছাড়া,বন্দিদের হাসপাতালে সরকারিভাবে বরাদ্ধকৃত ওষুধ তেমন কখনও মেলেনা। যার কারনে কারাগারের মধ্যে স্থাপিত বন্দিদের জন্য স্থাপিত হাসপাতালে বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসা না মেলায় সামান্য জ¦রসহ বিভিন্œ রোগ নিয়ে কাতরা হয়।

 

কাতরানোর এক পর্যায় অবস্থা চরম শোচনীয় পর্যায় পৌছালে তাকে কাগারের পিকআপ যোগে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে চরম অনিয়মের ব্যাপারে জেলারের সরকারি ০১৭৬৯৯৭০৬১১ নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে এর প্রতিকার চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ প্রধান উপদেষ্টার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বন্দিদের আত্মীয় স্বজন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ