প্রতিনিধি যশোরে বিএনপির আরও এক নক্ষত্র না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন। সদর উপজেলা চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার আর নেই। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় যশোর-২৫০ শয্যা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৬২) বছর। তিনি স্ত্রী দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মী সহ এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর সংবাদ শোনা মাত্রই হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এসময় তিনি নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছুটে যান যশোর জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন নেতৃবৃন্দ। হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শহরের ঘোপের বাস ভবনে। সেখানে তার শোকাহত স্বজনদের না ন্তনা দিতে আগেই উপস্থিত হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,কিছু দিন পূর্বে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে ওপেন হার্ট সার্জারী করেন। এর থেকে তার শারীরিক অবস্থা কিছু টা ভালো হলেও গতকাল শনিবার সকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে যশোর -২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিড়ির পর্যবেক্ষন ইউনিটে রাখা হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টায় সাবেক জনপ্রিয় এই চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়।
আব্দুস সাত্তার চূড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির দুইবার সভাপতি ও সাধরণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি তিনবার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ঘোপের বাস ভবন থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় খিতিবদিয়া গ্রামের তার জন্মভূমিতে । সেখানে রাত ১০ টায় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।
চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুতে গভীর জানিয়েছেন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। নেতৃদ্বয় এক শোক বিবৃতিতে বলেন, শহীদ জিয়ার নীতি আর্দশ ও দর্শনে গভীর আস্থাশীল আব্দুস সাত্তার চূড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপিকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে তিনি নিরালস ভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বার বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে অত্যান্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তার মৃত্যুতে অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল, যে ক্ষতি ইউনিয়নবাসীকে দীর্ঘ দিন যাবৎ অনুভব করতে হবে। দোয়া মহান রাব্বুল আল আমিন যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন । তার শোকাহত স্বজনদের ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। উল্লেখ্য সদর উপজেলা বিএনপিন সভাপতি মোঃ নূর-উন-নবী ও জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি বদিউজ্জামান ধনী হারিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা শোকে বাকরুদ্ধ।

