বিশেষ প্রতিনিধি
যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। তার মধ্যে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এ নিয়ে জেলার তৃর্ণমূল নেতা কর্মীদের দৃস্টি এখন ঢাকার দিকে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় এমপিসহ দেড় শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তবে এ নিয়ে জেলার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে তেমন কোন তৎপরতা নেই। যে কারণে তিনি ঢাকা ছেড়ে এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অন্য দিকে জেলা পরিষদ বাগে রাখতে পছন্দের প্রার্থী নিয়ে শীর্ষ নেতাদের সাথে দেন দরবার অব্যাহত রেখেছেন জেলার দুপক্ষের নেতারা। মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের সাথে প্রার্থীদের আমল নামা তুলে ধরে পক্ষে বিপক্ষে যোগ্যতার যুক্তি উপস্থান করা হচ্ছে। তবে কোন বিবেচনায় এবার জেলা পরিষদের প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে তা নিশ্চিত করতে পারছে না ঢাকার সূত্রগুলো। সকলেই চেয়ে আছেন দলীয় হাই কমান্ডের দিকে। ইতোপুর্বে পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে চমক সৃস্টি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাদের নাম মোটের আলোচনায় ছিল না শেষ পর্যন্ত তারাই পেয়ে যান দলের মনোনয়ন। পৌর সভায় হায়দার গণি খান পলাশা, সদর উপজেলায় প্রথম উপ নির্বাচনে প্রয়াত নুরজাহান ইসলাম নীরা এবং সর্বশেষ দলীয় মনোনয়নে উপজেলা চেয়াম্যান হয়েছেন মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী। তাঁরা আলোচনায় না থাকলেও প্রত্যেকের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান রয়েছে। এবারও তেমন কিছু ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শনিবার বিকেল ৪টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভা ডাকা হয়েছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন বোর্ডে সভাপতিত্ব করবেন। সেখানেই জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
যশোর জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্য ১৮ জন। মনোনয়ন প্রত্যাশীর এই বিশাল সংখ্যা ইতিপূর্বে কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা হলেন, যশোর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সহ সভাপতি ও সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, সাবেক এমপি আলেয়া আফরোজ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মজিদ, খয়রাত হোসেন, আলী রায়হান, গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড.আবু সেলিম রানা, হারুন অর রশিদ, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লাইজু জামান, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক সোলাইমান হোসেন ও চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম।
আগামী ১৭ অক্টোবর যশোরসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর ও ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।

