শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোর শহরে যানজটে নাকাল জনজীবন

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরে বেড়েই চলেছে যানজট। একদিকে প্রচন্ড গরম তার পর যানজটে পড়ে নাকাল হয়ে পড়ছে জনজীবন। শহরের ব্যস্ততম সড়কসহ ওলিগলিতে দিনভর লেগেই থাকে যানজট। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কার্যত কোন ভুমিকা দেখা যাচ্ছেনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাদের হাতে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা, তারাই বিভিন্ন বাহন প্রতিষ্ঠানের মালিক; কেউ আবার মালিক-চালক সমিতির হোতা।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরে বৈধ ইজিবাইক রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। তার মধ্যে হায়দার গণি খান পলাশের সময়ে প্রায় এক হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার দেয়া লাইসেন্স অনুযায়ী বৈধ রিকশা রয়েছে ২ হাজার ৯শ’ ৭৩টি। সাবেক মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ প্রায় ৯শ’টি লাইসেন্স দিয়েছেন। স্মার্ট রিকশা ২৪টির মধ্যে সদ্য সাবেক মেয়রের আমলে একটির নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভ্যান রয়েছে ২শ’ ৯৩টি। ৩৫টি মেয়র পলাশের আমলে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। পৌরসভার তথ্যমতে সবমিলিয়ে শহরে ৭ হাজার ৭শ’ ৬৮টি বৈধ যানবহন রয়েছে। কথা প্রসঙ্গে তিনি যানান দোকানের মালামাল ক্রয় বিক্রয় শহরের বড় বাজার এলাকা, ঘোপ এলাকা, বকুল তলা, মাইক পট্টি,চৌরাস্তা থেকে মনিহার পর্যন্ত সকল এলাকায় দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ বার যানজট লেগে যায়। এর ফলে কার্যত শহরের ঢোকা বেরোনোর অবস্থা থাকে না।
দিনের বেলা দড়াটানা ব্রিজ এর পাশ থেকে, কাঠের পুল ব্রিজ এর পাশ থেকে থ্রী হুইলার, ইজিবাইকের যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য অবস্থানের কারনেও যানজট লেগে থেকে এই এলাকায়। আসে পাশে আছে শহরের প্রাই সব বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালসহ ঔষধ, খাবারের দোকান। যে কারনে এখানে সবসময়ে জনসমাগম বেশি থাকে। এখানেই অবস্থিত যশোর ট্রাফিক পুলিশের অফিসটি। তারপরেও তাদের কোন দেখভাল নেই। পথচারীরা বলছেন ট্রাফিক বিভাগের লোকজন চরম উদাসিন।

ট্রাফিক বিভাগের একজন সার্জেন্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অল্প বয়সী ছেলেরা যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে তাদের গাড়ি চালাচ্ছে। অযথাই গাড়ি আড় করে দিয়ে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছে। আমরা না পারছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে, না পারছি আমাদের উপর মহলে অভিযোগ করতে। সকলে আমাদের ধৈর্য্য ধরতে বলছে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে সব কিছু ঠিক করে সামনের দিনগুলোয় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

যশোরে যানজটের কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব বাহনের কারণেও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকগুলোর মনে মৃত্যুর ভয়ও নেই। তারা রাস্তার মাঝে থেমে যায়, উল্টোদিক থেকে এসে অচলাবস্থা তৈরি করে।

ইজিবাইকগুলিও সেই অবস্থা শহরের মধ্যে যে ভাবে পারছে সেভাবে থামছে, মানতে চাচ্ছে না কোন নিয়ম কানুন।যশোর শহরের মধ্যে হাজার দশেক ব্যাটারিচালিত রিকসা, ইজিবাইক চলাচল করে। এসবের চালকরা খরিদ্দার ধরার জন্য প্রাই সময়ই সড়কের মাঝে অবস্থান করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাস্তার মোড় দখল করে রাখে। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করে না। তিনি বলেন, এসব ঠিক করতে হলে আগে সাধারণ যাত্রীদের সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে তার আহ্বান, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে শহরের এ অবস্থা চলতেই থাকবে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, নির্দেশনা না আসায় তারা এখনো কোনো অভিযানে অংশ নেননি। ফলে মামলাও হচ্ছেনা। অনেকেই হয়তো এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি পৌর প্রশাসকের সাথে কথা বলেছেন। বৈধ যানবহনের প্রকৃত সংখ্যা তাদের কাছে নেই। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে তা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অভিযানে নামবেন বলে জানান।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, ইতিমধ্যে তারা যানজট নিরসনে কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন বৈধ যানবহনের নির্দিষ্ট সংখ্যা তারা বের করছেন। তারা যশোর শহরে অবৈধ যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাইকিং করছেন।
তাদের ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তারা অবৈধ যানবাহন চলাচলে অভিযানে নামার আশ্বাস দেন তিনি।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ