শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনঃ ৮ প্রার্থীর অগ্নিপরীক্ষা কাল

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রচার প্রচারণা শেষ। রাত পোহালে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে এক দিকে উৎসব অন্যদিকে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা। এটি অরাজনৈতিক বা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও জেলার সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বহু প্রত্যাশিত সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন জেলা নেতৃবৃন্দের ভাগ্য পরিবর্তনের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত এই নির্বাচনে জয় পরাজয় রাজনীতির মাঠে কারো উত্থান আবার হেভিওয়েট অনেক নেতা ছিটকে পড়তে পারেন। সেকারণে এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তারা। এরই মধ্যে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে নির্বাচন অবাধ সুষ্ট এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে।
ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।

সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে  ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী আনারস, ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল দোয়াত কলম, যুবলীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু মোটর সাইকেল, মোহিত কুমার নাথ শালিক পাখী, ফতেমা আনোয়ার ঘোড়া, শফিকুল ইসলাম জুয়েল কাপ পিরিচ, শাহরুল ইসলাম জোড়া ফুল এবং আনম আরিফুল ইসলাম হিরা লড়ছেন উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে।
যশোর সদরে আওয়ামী ঘরানায় দৃশ্যত দুটি ধারা থাকলেও উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে তা এখন অষ্টম খন্ডে পরিণত হয়েছে। নেতা বা কর্মী এখন আর কেউ কারো বাগে নেই। স্বাধীনভাবে সবাই তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিয়ে ভোট যুদ্ধে কাজ করছেন।
তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফন্টু চাকলাদারকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করছেন। অপর দিকে নাবিল গ্রুপের সমর্থন নিয়ে ভোট যুদ্ধে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন বিপুল। অন্যদিকে মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সাথে আওয়ামীলীগ এবং যুবলীগের শীর্ষ নেতারা থাকলেও নাবিল গ্রুপের একটি অংশ তার কোটে নেই।

তবে তার দাবি প্রয়াত সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটোর অনুসারিরা এই নির্বাচনে তাকে সমর্থন দিয়েছেন। এদিকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত নাথ  চেয়ে আছেন হিন্দু ভোট ব্যাংকের দিকে। গেল সংসদ নির্বাচনে কাজী নাবিলের বিপক্ষে দাড়িয়ে তিনি যে ভোট  পেয়েছিলেন এবারও সেই পরিমান ভোট পেলে  অনায়াসে জিতবেন বলে আশা করছেন তার সমর্থকরা।
অপরদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে ঝড় তোলেন  একমাত্র নারী প্রার্থী ফতেমা আনোয়ার। শেষ মুহুর্তেও তাকেই শক্ত প্রার্থী বলে মনে করছেন অনেকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের একটি অংশ  ভোটের মাঠে যাবে বলেও বিভিন্ন সুত্রে খবর পাওয়া গেছে। শেষ পর্যন্ত তারা যদি ভোটের মাঠে যায় সেক্ষেত্রে ঘোড়া প্রতীকের পাল্লা ভারি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া মোটর শ্রমিকদের মোটা দাগে সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।
অপর তিন প্রার্থীর মধ্যে শফিকুল ইসলাম জুয়েল শুরু থেকে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এবং শাহরুল ইসলাম শেষ পর্যায়ে এসে প্রচারণায় ঝড় তোলেন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে তিন জন প্রার্থী পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের মধ্যে দু’প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেন। আর অপর প্রার্থী মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনেছেন। একইসাথে প্রতিপক্ষ এক নারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কালো টাকা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মাঠে নামানোর অভিযোগ করেছেন।
বেলা সাড়ে ১২টায় নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আ ন ম আরিফুল ইসলাম হীরা। তিনি উপজেলাবাসীর সেবায় ও এলাকার উন্নয়নে ২৫টি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
দুপুর ১টার দিকে ইশতেহার ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বিপুল। তিনি উপজেলায় শিশু পার্ক নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি-স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ,ব্যবসায়িক কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এদিকে দুপুর দুইটাই সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন। একইসাথে প্রতিপক্ষ নারী প্রার্থী ফাতেমা আনোয়ারের বিরুদ্ধে কালো টাকা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মাঠে নামানোর অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, যশোর সদরের ফতেপুর ও উপশহরের কিছু অংশ, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ও মোল্লাপাড়া বকচর এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্মী ও ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ