নিজস্ব প্রতিবেদক:আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হচ্ছে। বিএনপির জোটভিত্তিক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এই আসনটির চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন। ঘোষিত তালিকায় বিএনপি ২৩৭টি আসনে নিজের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং শরীক দলের জন্য ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছে। যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনটি ওই ফাঁকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুফতি আব্দুর রশিদ (রশীদ বিন ওয়াক্কাস) মনিরামপুর থেকে জোটপ্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে পারেন। রশীদ ওয়াক্কাসের পিতা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস এই আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন; তিনি প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, “ওয়াক্কাস পরিবারের সুনাম আছে, তারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মানুষের পাশে ছিল।’’
এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরেও মনিরামপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য লড়ছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে আছেন শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, আসাদুজ্জামান মিন্টু, ইফতেখার সেলিম অগ্নি, অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মিসেস জাহানারা সিদ্দিকী, মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী (বাচ্চু), এবিএম গোলাম মোস্তফা তাজ, এম এ গফুর, কামরুজ্জামান শাহিন, মঈনুল ইসলাম মঈন, মোঃ মুতাছিম বিল্লাহ ও মোঃ শরীফুজ্জামান শরীফ খান। তারা প্রত্যাশা করছেন বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে তাদেরই কেউ ধানের শীষে প্রার্থী হবেন।
জমিয়ত এখনো নিবন্ধনহীন থাকায় তাদের নিজস্ব কোনো প্রতীক নেই; তাই যদি বিএনপি শরিক হিসেবে মনোনয়ন দেয়, তাহলে রশীদ ওয়াক্কাস ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনিরামপুর আসনটি যশোরের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ইসলামি ধারার ভোটই প্রভাবশালী। ফলে জোট কৌশল এবং প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতাই ফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
জেলা ও স্থানীয় ভোটারদের মনোভাবও বৈচিত্র্যময়: এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা এমন প্রার্থী চাই, যিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন,” আর এক তরুণ বললেন, “ওয়াক্কাস পরিবারের নাম আছে, তবে এখন নতুন নেতৃত্বও দরকার।”
সব মিলিয়ে যশোর-৫ আসনে চূড়ান্ত চিত্র নির্ভর করবে দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর যা এলাকায় গভীর আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

