নিজস্ব প্রতিবেদক :আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর-৫ (মনিরামপুর) ও যশোর-৬ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২১ আগষ্ট বৃহস্পতিবার এ নিয়ে দুই দলের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্নার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন তার স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সভাপতি সুকৃতি কুমার মন্ডল যশোর-৬ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে মনিরামপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন—ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর ও মনোহরপুর এবং কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাট, পাজিয়া ও গৌরিঘোনা ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “ভবদহ সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা হলেও সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তনের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব নয়। প্রস্তাবিত সীমানা পরিবর্তন হলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে এবং মনিরামপুরবাসী চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনিরামপুর উপজেলা আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক তার স্মারকলিপিতে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সীমানা পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, সুকৃতি কুমার মন্ডল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনিরামপুরের হিন্দু অধ্যুষিত ছয়টি ইউনিয়নকে আলাদা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার ভাষায়, “এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা। যশোরের কোনো স্বীকৃত রাজনৈতিক দল এমন প্রস্তাব দেয়নি। একজন ব্যক্তির হীন স্বার্থে করা এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।”
দুই দলই নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন—যশোর-৫ (মনিরামপুর) ও যশোর-৬ আসনের বর্তমান সীমানা অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য।
মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি ও জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বরাবর এই স্মারকলিপি জমা দেন।

