বিশ্বজিৎ সিংহ রায়,মহম্মদপুর ( মাগুরা): আবুনিককতার ছোঁয়ায় চিকিৎসা সেবায় বিপ্লব ঘটলেও তুলসী গাছ এখনও ঘরোয়া চিকিৎসায় এক নির্ভরযোগ্য ভেষজ। এই ভেষজের নেই কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়। এই কারণে যুগ বদলালেও যার চাহিদা রয়েছে মহম্মদপুরসহ সারা দেশে । যারা জানে বা চেনে তারা স্বযত্নে তুলসী গাছ সংরক্ষণ এবং গুরুত্বসহকারে ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
বাড়ির আঙিনা, উঠান কিংবা মাটির টবে-তুলসী গাছ যেন শত শত বর্ষের ঐতিহ্য। ধর্মীয় বিশ্বাস,আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এবং সব ক্ষেত্রেই তুলসী এক অনন্য ভেষজ সম্পদ।
সহজে চাষযোগ্য,দুর্গন্ধনাশক,অ্যান্টি
তুলসীর রং ও গঠন তার জাত অনুযায়ী আলাদা। সাধারণত দু’টি জাত বেশি পরিচিত। উজ্জ্বল সবুজ পাতা,সুগন্ধ বেশি,ডাঁটা কোমল সবুজ।পাতার রং গাঢ় বেগুনি বা কালচে,ডাঁটা বেগুনি।ঔষধি গুণের জন্য অনেকের কাছে বেশি জনপ্রিয়।উভয় ধরনের তুলসীই ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত বাড়ে এবং পাতার ভেতরকার সুগন্ধী তেলই এই গাছের ভেষজ শক্তির মূল উপাদান।
শ্বাসকষ্ট,সর্দি,কাশি,ফ্লু,অ্যা
তুলসীতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এসেনশিয়াল অয়েল রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়িয়ে শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত তুলসী পাতা খেলে সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমে।
অম্বল,গ্যাস,অজীর্ণতা দূর করতে তুলসী দারুণ কাজ করে। সকালে ৪–৫টি পাতা খেলে হজমশক্তি স্বাভাবিক থাকে। তুলসী প্রাকৃতিক স্ট্রেস-রিলিভার হিসেবে পরিচিত। এর সুগন্ধ স্নায়ু শান্ত করে, ক্লান্তি ও মানসিক অস্থিরতা দূর করে।
তুলসীর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। চুলের খুশকি, সংক্রমণ ও চুল পড়া কমাতে তুলসীযুক্ত তেল ও মাস্ক ব্যবহৃত হয়।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তুলসীর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। তুলসী শরীরের গ্লুকোজ বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করতে সহায়তা করে।
তুলসী চা ও হারবাল ড্রিঙ্ক কফ সিরাপ ও ভেষজ ওষুধ,তুলসী তেল সৌন্দর্যপণ্য-ফেসওয়াশ,প্যাক,চুলের তেল ও হারবাল শ্যাম্পু,অ্যারোমা সলিউশন,ধূপ,এসেনশিয়াল অয়েল, ডিটক্স ওয়াটার
বিদেশি রান্না-সালাদ,পাস্টা,সুপ (বেসিল হিসেবে ব্যবহৃত),তুলসী গাছ বাতাসের জীবাণুনাশক ক্ষমতা বাড়ায়,পরিবেশকে সুগন্ধী রাখে এবং মশা-পোকামাকড় দূর করে।পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাসে তুলসী পবিত্রতার প্রতীক-যা বাড়ির পরিবেশকে শান্ত রাখে বলে মনে করা হয়।
অত্যন্ত সাধারণ,কিন্তু অমূল্য;তুলসী গাছের গুণাগুণ শেষ করা কঠিন।প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রে যার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম,আধুনিক বিজ্ঞানও আজ সেই পথেই হাঁটছে। স্বাস্থ্য,সৌন্দর্য,রান্
সরকারি উদ্যোগে এই গাছ বেশী বেশী রোপন এবং এর গুণাগুন প্রচার করা দরকার বলে মনে করেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

