নিজস্ব প্রতিবেদক :একঅপরকে রঙে রাঙিয়ে যশোরে পালিত হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই যশোর শহরের বিভিন মন্দির ও কলেজ ক্যাম্পাসে এ উৎসব উদযাপন শুরু হয়। তবে সবচেয়ে বড়পরিসরে দোল উৎসবে উদযাপন হয়েছে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ে। প্রতিটিস্থানেই হই-হুল্লোড় করে রঙ ছিটিয়ে উৎসব পিয়াসিরা মেতে ওঠেন উৎসবে। কেউ বা আপনজনকে কোমল হাতে দেন রঙিন আবিরের ছোঁয়া।
যশোর শহরের বেজপাড়া মন্দির, হরিসভা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, যশোর সরকারি এম এম কলেজে অবিরের রঙে রাঙিয়েছেন একে অন্যকে। মন্দিরগুলোতে গানের তালে তালে একে অপরের গায়ে রঙ ছিটিয়ে দিয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। তবে দিনভর অন্যরকম উৎসবে মেতে উঠে এম এম কলেজে। গোটা ক্যাম্পাস জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। লাল, বেগুনি, হলুদ, গোলাপি আবিরের রঙে পাল্টে যায় তরুণ-তরুণীরা।
এম এম কলেজের শিার্থী মিতালী বালা ও ঐশী সিকদার জানান, এ দোল উৎসব ঘিরে হিন্দুরা আবিরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। পাশাপাশি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে আবির দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাছাড়া এই দোল উৎসব একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দিপ্ত সিংহ নামে আরেক শিার্থী বলেন, রঙ যেন মোর মর্মে লাগে, রঙ যেন মোর কর্মে লাগে। এই দোল উৎসবে রঙিন আমেজটুকু সবার মাঝে পৌঁছে যাক।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সাবেক সভাপতি সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, দোল পূর্ণিমা তিথিতে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ গোপ-গোপীদের সঙ্গে রঙ খেলায় মেতেছিলেন। তখন থেকেই দোল খেলা শুরু। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কৃপা পাওয়ার আশায় দোল পূর্ণিমায় আবির খেলা মেতে ওঠেন ভক্তরা। এই হোলির আবির শুধু মানুষের শরীরের নয়, রাঙিয়ে দেবে মানুষের মনকেও। যে মনে স্থান পাবে না, সাম্প্রদায়িকতার কোনো বিষবাষ্প।

