সোমবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাজগঞ্জের ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে রোগী আছে, ডাক্তার নেই

আরো খবর

জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে রোগী আছে, ডাক্তার নেই। গত এক বছর ধরে এ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে কোন এমবিবিএস ডাক্তার নেই। চিকিৎসা সেবা সাধারন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার চালু করেছেন এ ধরণের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কাঙ্খিত সেই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের গরীব অসহায় রোগিরা।
জানা যায়, গত চার মাস আগে ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের এমবিবিএস ডাক্তার সুমন গুপ্ত বদলী হয়ে যায়। এরপর থেকে এখনও পর্যন্ত ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে কোন ডাক্তার যোগদান করেনি। ফলে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের গরীব অসহায় গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক নারী পুরুষ ও শিশুরা।
এছাড়াও এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেই একজন অফিস সহায়ক, একজন নার্স, সেই সাথে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নেই একজন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শীকা ও একজন অফিস সহায়ক। রোগীর চাপ সামাল দিতে বর্তমানে এখানে উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা, আবু তৌহিদ ও ফার্মাসিস্ট হীরাশীষ মজুমদার দায়িত্ব পালন করছেন।
সরজমিনে রোববার সকালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায়, কয়েকজন নারী তারা তাদের নিজের নানা সমস্যা ও শিশুদের সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের অপেক্ষায় কয়েক ঘন্টা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে বসে রয়েছেন। গর্ভবতী মহিলাসহ কেউ কেউ আবার অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে চলে গেছেন বলে জানান অন্য রোগীরা। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের ভিতরে বেশ কয়েকজন রোগী চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে থাকলেও সেই চিকিৎসকের কক্ষে দীর্ঘ চারমাস ধরে তালা ঝুলছে। হানুয়ার গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী লিপি বেগম জানায়, তিনি গর্ভবতী। সকাল ৯টার সময় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে এসে শোনে ডাক্তার নেই। তাই তিনি সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
হানুয়ার গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী জেসমি নাহার জানান. তার ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নাঈম হাসানের ঠান্ডাজনিত সমস্যা। তাই তিনি রান্নাসহ বাড়ির কাজ রেখে অসুস্থ্য ছেলেকে নিয়ে সকাল থেকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে এসে বসে আছেন। একই গ্রামের প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী তানিয়া বেগম জানান, তিনি শরীরের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তাই তো তিনি সকাল সকাল ডাক্তারের অপেক্ষায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে বসে আছেন।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে আসা খালিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক, হানুয়ার গ্রামের ছবেদ আলী, বণিকপাড়া গ্রামের অসিম কুমার ও রাজগঞ্জ কলেজপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী গাজী জানান, অনেকদুর থেকে তারা পায়ে হেটে ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে এসেছেন। এখানে এসে দেখেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে খোলা আছে কিন্তুু ডাক্তার নেই। এর আগেও তারা দুইদিন এখানে এসেছেন কিন্তুু কোন ডাক্তারের দেখা পাননি। সেবা নিতে আসা এসকল রোগীরা বেশ ক্ষোভের সাথে বলেন, সরকার গরীবের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে করেছেন। অথচ বন্যাকবলিত এ ইউনিয়নের একমাত্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রেটিতে দীর্ঘদিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত কোন এমবিবিএস ডাক্তার যোগদান করেননি।
এব্যাপারে কথা হয় ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা, আবু তৌহিদ ও ফার্মাসিস্ট হীরাশীষ মজুমদারের সাথে তারা জানান, এখানে প্রতিদিন গর্ভবতী মহিলাসহ সব বয়সী রোগীর চাপ অনেক বেশি। রোগীর চাপ সামাল দিতে ডা, আবু তৌহিদ সাসপেন্ডে থেকেও নিয়মিত ঝাঁপা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে এসে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা যায়।
এব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, তন্ময় বিশ্বাস জানান, রাজগঞ্জ হচ্ছে সাব সেন্টার। এখানে এমবিবিএস ডাক্তারকে ঢাকা থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে অন্যান্যে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলোর বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ