জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝাঁপা বাওড়ের উপর নির্মিত দু’টি ভাসমান সেতুর পাশে তৈরী হয়েছে বর্জ্যরে স্তুুপ। প্রচন্ড গরম আর ময়লা আবর্জনার পঁচা দুর্গন্ধে ভাসমান সেতু পারাপারে মানুষকে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তেমনি কপোতাক্ষ নদ ও ঝাঁপা বাওড়ের পানি দুষিত হয়ে মারা যাচ্ছে মাছ। এতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মূখিন হচ্ছে বাওড়ের লিজ গ্রহিতারা। দীর্ঘদিন ধরেই এমন সমস্যা চললেও বিষয়টি নিয়ে কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই।
ঝাঁপা বাওড় কেন্দ্রীক ব্যবসা-বানিজ্যির অন্যতম কেন্দ্র হচ্ছে রাজস্বী রাজগঞ্জ বাজার। প্রাচীনতম এ বাজার ঘিরে যেমন গড়ে উঠেছে দোকানপাট, কলকারখানা তেমনি বাওড়ের দুই পাশে রয়েছে কয়েক হাজার বসতি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজগঞ্জ বাজারসহ দুই পাড়ের দোকানপাট ও বাসা বাড়ির গৃহস্থালিসহ গরু ছাগলের বর্জ্যসহ নানা ধরণের বর্জ্য ঝাঁপা বাওড়ের তীর ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে। এতে তৈরী হয়েছে ময়লার ভাগাড়। এসব বর্জ্যর কারণে ঝাঁপা গ্রামের সেই ৬০যুবকের উদ্যোগে নির্মিত ভাসমান সেতুর উপর দিয়ে চলাচল দিনদিন সীমিত হয়ে পড়ছে।
দেশের বৃহত্তর এ ভাসমান সেতু দু’টি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দর্শনার্থীরা ভীড় করে। এছাড়া ছুটির দিনে এ দু’টি ভাসমান সেতুর উপর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যেত। তবে সেই প্রাণ চঞ্চলতা আর দর্শনার্থীদের উচ্ছাস এখন অনেকটা গল্পে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দু’টি ভাসমান সেতুর পাশে কোন শৌচাগার না থাকায় দর্শনার্থীদের পড়তে নানা সমস্যায়। এসকল সমস্যার পাশাপাশি যোগ হয়েছে বর্জ্য পঁচা গন্ধ। সব মিলিয়ে এক ক্ষতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে ঝাঁপা বাওড়ের দুই পাড়ের মানুষ।
রাজগঞ্জ এলাকার আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, রাজগঞ্জ বাজারসহ ঝাঁপা বাওড়ের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা দোকানপাটের বর্জ্য বাওড়ের পানির সঙ্গে মিশে পানিও দুষিত হয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে মাছ। আর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে বাওড়ের লিজ গ্রহিতারা। আগে এ এলাকার মানুষ বাওড়ের পানি দিয়ে রান্নার ও গোসলসহ যাবতীয় কাজ করতো। কিন্তুু এখন সেই বাওড়ে বর্জ্য ফেলার কারণে পানিতে নামাই যায়না বলে জানান এ বাসিন্দা।
ভাসমান সেতু পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মেহেদি হাসান টুটুল জানান, ভাসমান সেতু দেখতে দর্শনার্থীরা যাতে ঝাঁপা বাওড়ের পানিতে ময়লা আবর্জনা না ফেলে সে জন্য ভাসমান সেতুর উপর প্লাষ্টিকের ঝুড়ি দিয়ে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সকল ময়লা আবর্জনা ঝুড়িতেই ফেলছে বলে জানান ভাসমান সেতু পরিচালনা কমিটির এ সভাপতি।
ঝাঁপা বাওড় পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক বাবু দুলাল কুমার জানান, বৃহত্তর ঝাঁপা বাওড়ে দুই ভাসমান সেতুর দর্শনার্থী ও রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের অব্যাহতভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তাদের প্রায় ৩০লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। বাওড় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাননি বলে জানান ঝাঁপা বাওড় পরিচালনা কমিটির এ নেতা।
এ ব্যাপারে কথা হয় রাজগঞ্জ বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল লতিফের সাথে তিনি জানান, বানিজ্যিক শহর রাজগঞ্জের আশপাশে কোথাও ময়লা আবর্জনা রাখার স্থান না থাকায় ঝাড়–দারসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা ঝাঁপা বাওড়ের পাশেই ময়লা আবর্জনা ফেলে আসছে। বিষয়টি শুনামাত্রই তিনি বাজারের ঝাড়–দারসহ সকল ব্যবসায়ীদের বাওড়ের পাড়ে ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য সর্তক করে দিয়েছেন। বাজার উন্নয়ন কমিটির নির্দেশ যদি কেউ না মানেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ নেতা।
এব্যাপারে ঝাঁপা ইউপির বার-বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সফল সভাপতি সমাজসেবক শামছুল হক মন্টু জানান, ভাসমান সেতু তৈরী হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্টদের অনেকবার বলা হয়েছে যে ঝাঁপা বাওড়ে যেন কোন দর্শনার্থী বর্জ্য না ফেলে। সেই সাথে বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে ও সর্তক করা হয়েছে। তবে বৃহত্তর ঝাঁপা বাওড় রক্ষার্থে দ্রুত রাজগঞ্জ বাজার উন্নয়ন কমিটি ও দু’টি ভাসমান সেতু কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসবেন বলে জানান এ জনপ্রতিনিধি
রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাওড়ে ময়লা আবর্জনা ফেলায় মারা গেছে ৩০লাখ টাকার মাছ ॥ দুশ্চিন্তায় বাওড়ের লিজ গ্রহিতারা

