জি.এম.বাবু. ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বানিজ্যিক শহরখ্যাত রাজগঞ্জ বাজারের ব্যস্ত সড়কে যত্রতত্র মালামাল লোড-আনলোড (উঠানো-নামানো) করায় পথচারীসহ এলাকবাসি চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। এছাড়া নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, পরিবহন ও সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। বাজারের প্রতিটা দোকানে মজুদ করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। নেই ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা সংক্রান্ত লাইসেন্স ও ছাড়পত্রসহ এক্সস্টিংগুইশার, মজুদ এবং ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, বৃহত্তর এ উপজেলার বৃহত্তর এ বাজারের প্রধান সড়কের উপর মালামাল লোড-আনলোড ও নিরাপদে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে।
সরেজমিন দেখা যায়, রাজগঞ্জ বাজারের মনিরামপুর সড়ক, রাজগঞ্জ পুলেরহাট সড়ক, ত্রিমোহনী সড়ক, রাজগঞ্জ বাজার মাছ বাজার সড়ক ও বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে প্রতিনিয়ত ট্রাকভর্তি রড, সিমেন্ট, মুদি দোকানের তেল ভর্তি ব্যারেলসহ যাবতীয় মালামাল ও নির্মাণসামগ্রি লোড-আনলোড করা হচ্ছে। এ কারণে দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রধান এ সড়কে তীব্র যানজোট লেগে থাকলে ও সংশ্লিষ্টদের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল চন্টা বলেন, রাজগঞ্জ বাজারের প্রধান কয়েকটি সড়কে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মালামাল লোড-আনলোড করায় জনসাধারনের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সেই সাথে রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হতে মেবারকপুর ব্রীজ পর্যন্ত প্রধান এ সড়কটি দিনদিন ছোট হওয়ায় ব্যস্ততম এ সড়কে তীব্র যানজোটের ও সৃষ্টি হচ্ছে। এটা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং জেলা পরিষদের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী পলাশ হোসেন বলেন, বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে দোকানের সামনে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করছে। অথচ এসব দোকানে অগ্নিনির্বাপকের কোন যন্ত্রপাতি নেই। যে কারণে মৃত্যুর ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে রাজগঞ্জ বাজারে আসা ক্রেতা বিক্রেতা ও সাধারন মানুষের।
রাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক ওসমান গণি জানান, বিষয়টি সরজমিনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় মারাত্মক ঝুকির মধ্যে রয়েছে সাধারন জনগণ।
গ্যাসসিলিন্ডার বিধিমালা ১৯৯১’তে বলা হয়েছে- ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা সংক্রান্ত লাইসেন্স ও ছাড়পত্রসহ এক্সস্টিংগুইশার, মজুত এবং ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। অথচ এসবের তোয়াক্কা না করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেদারছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদ রাখছেন। সিলিন্ডার আমদানি বিষয়ে বিধির তৃতীয় পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে-কোন ব্যক্তি বিনা লাইসেন্সে গ্যাসপূর্ণ বা খালি সিলিন্ডার আমদানি করতে পারবে না। বৃহত্তর রাজগঞ্জ বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকারি এসব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মনিরামপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারসহ দাহ্য পদার্থের জন্য ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ও এক্সস্টিংগুইশার থাকা অবশ্যই বাধ্যতামূলক। ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে এলপি গ্যাস বিক্রিতাদের তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা এলপি গ্যাস বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স বা অনুমোতি না নিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে।

