জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ কৃষি নির্ভর ফসল হচ্ছে রোপা আমন। কিন্তুু মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি না হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন সাধারন কৃষকেরা। সেক্ষেত্রে ধানের চারার বয়স যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে ফসল উৎপাদন কম হবে। এরকম আশংকা দেখা দেয় রোপা আমন আবাদে। তাই তো বোরো মৌসুমের মতো সেচ পাম্প চালিয়ে যশোরের মনিরামপুরের মাঠে মাঠে রোপা আমন আবাদের সফলতা দেখিয়েছে এলাকার কৃষকেরা। বর্তমানে বৃহত্তর এ উপজেলার মাঠ জুড়ে শুধু সবুজের ঢেউ।
মনিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে বৃহত্তর এ উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নে ২২হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। আর চলতি রোপা আমন মৌসুমে সম্ভব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১লাখ ১৩ হাজার ২৫০ মেট্রিকটন। তবে কৃষকদের রোপা আমন চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও রোপা আমন ধানের চারা বেশি রোপন করা হয়েছে। যে কারণে চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষি অধিদপ্তর।
এব্যাপারে কথা হয় ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম রসুল চন্টার সাথে তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির দেখা না মেলায় রোপা আমন ধান আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই রোপা আমন ধান চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন তিনিসহ স্থানীয় কৃষকেরা। এমতাবস্থায় সেচ পাম্প চালিয়ে জমি প্রস্তুুতসহ রোপা আমনের চারা রোপন করা হয়। খরচ বেশি হলেও রোপা আমনের বাম্পার ফলনে বেশ খুশি সাবেক এ জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় কৃষকেরা। সেচ পাম্প মালিক টুকু ও মতিয়ার রহমান জানান, ২৫ বছর ধরে সেচ পাম্প চালাচ্ছি। সাধারনত বোরো মৌসুমে সেচ পাম্প চালাই। তবে এবারই প্রথম আমন মৌসুমে সেচ পাম্প চালিয়ে রোপা আমনের আবাদ করতে হয়েছে।
এবার যথা সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমি প্রস্তুুত ও ধানের চারা রোপন করতে হয়েছে। এতে করে কৃষকের দ্বিগুণ টাকা খরচ করতে হয়েছে। উপজেলার রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, খানপুর, নেহালপুর, মনোহরপুর, দুর্বাডাঙ্গা, কুলটিয়া, হরিদাসকাটি, কাশিমনগর, ভোজগাতি, ঢাকুরিয়া ও মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের কৃষকদের সেচ পাম্প চালিয়ে চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের চাষ করতে হয়েছে। কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ রোপন আমন ক্ষেতে মাজরা পোকা আক্রমণ, পাতা মোড়ানো এবং কারেন্ট পোকার আক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। যে কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও নানা রোগ বালাইয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বেশ কিছু কৃষক। পোঁকা ও রোগ বালাই দমনে নামী-দামী কোম্পানির ঔষধ ব্যবহার করেও ভাল ফলাফল না মেলায় রোপা আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র অর্জন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ এসকল কৃষকের মাঝে। তবে কিছু কিছু অঞ্চলের ধান গাছের পাতা রোগে আক্রান্ত হয়ে সাদা রূপ ধারন করে ধান গাছ পচে যাচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ ফলনসীল একাধিক জাতের ধানে পোকার আক্রমন লক্ষ্য করা গেছে সবচেয়ে বেশি।
আবার কিছু কিছু ধান ক্ষেতে খোল পচা, মাজরা পোকা ও কারেন্ট পোকার আক্রমনে উঠতি রোপা আমন ধানের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এসব পোকা দমনে কৃষকেরা নামী-দামী কোম্পানির কিটনাশক ক্ষেতে ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। কৃষকেরা চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করলেও ধান গাছ পঁচা রোগসহ মাজড়া এবং কারেন্ট পোঁকার আক্রমনে তাদের সে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিনত হতে যাচ্ছে। তবে সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে মনে করেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

