জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বানিজ্যিক শহরখ্যাত রাজগঞ্জ বাজারসহ পশ্চিমাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশুরা লেখাপড়া ছেড়ে দারিদ্রতার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য নেমে পড়ছে নানান পেশায়। কিন্তু এ ব্যাপারে একেবারেই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।
রাজগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিশু শ্রমিকরা কাজ করছে খাবার হোটেলের বয়, ট্রাক ও বাসের হেলপার, বিভিন্ন হাট-বাজারের মুদি ও চায়ের দোকানের কর্মচারি। কাঠ মিস্ত্রী ও রাজমিস্ত্রীর যোগাড়িদার। ক্ষেত খামারের দিনমজুর, ইট ভাটার ইট তৈরীর কর্মচারিসহ বিভিন্ন বাসাবাড়ির পানি বাহক ও ঝাড়–দার হিসাবে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো অনেক শিশু শ্রমিক কাজ না পেয়ে চুরি, ছিনতাইসহ সমাজ ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তারা নানা ধরণের মরণব্যাধি মাদকদ্রব্য সেবনও করছে। সম্প্রতি এ সকল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অনেক শিশু স্কুলে না যেয়ে পরিবার পরিজনের মুখে আহার যুগাতে রাস্তায় ইঞ্জিন চালিত ভ্যানগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।
রাজগঞ্জ বাজারে ফিরোজ নামের এক হোটেল শ্রমিক জানায়, দারিদ্রতার কষাঘাত ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির কারণে তার অসহায় পিতা পাঁচজনের সংসারে আহার যুগাতে পারছেনা। এজন্য লেখাপড়া ছেড়ে সংসারের অভাব অনাটন মিটাতে বেচে নিয়েছে হোটেল বয়ের কাজ। শুধু ফিরোজ নয় রাসেল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, খসরু, তুষার পাভেল, বিদ্যুত, জামালদের মত অসংখ্য শিশু শ্রমিকদের অবস্থাও একই। এসব শিশু শ্রমিকদের কঠোর প্ররিশ্রম দেখে বিবেকবান সচেতন নাগরিকদের ব্যাথিত করে তুলছে। তাদের দাবি শিশুদের জন্য আর্ন্তজাতিক শিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ কর্তৃক জারিকৃত একাধিক শিশু সনদ ও রয়েছে। অথচ এসকল শিশুদের নিয়ে কারও কোন মাথা নেই।
মানবাধিকার কর্মী বিল্পব হোসেন জানান, শিশুশ্রম বন্ধে প্রণয়নকৃত এসব সনদ কি শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ ? বাস্তবে ওই সব সনদ বা আইনের প্রয়োগ নেই কেন ? এসব প্রশ্নের উত্তর আসলে কারো কাছেই নেই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সকল শিশুদের লেখাপড়ার জন্য বিনা বেতনে শিক্ষার ব্যবস্থা, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি, উপবৃত্তি ব্যবস্থা ও বিনা মুল্যে বই বিতরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিন্তু এসব বাস্তবায়নের জন্য যেসব দপ্তরগুলো রয়েছে তারা একেবারেই নিষ্ক্রিয়। কালে-ভদ্রেও তাদের কোন অভিযান চোখে পড়ে না। এসব ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্রও নীরব। এতে জ্যামিতিক হারে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
ঝাঁপা ইউপি চেয়ারম্যান ও মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সমাজসেবক শামছুল হক মন্টু জানান, দিন দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা সত্য। তবে এর থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে প্রতিটা ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এসকল শিশু শ্রমিকসহ তাদের অভিভাবকদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করা। আর এই বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত এসকল শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা। এব্যাপারে ঝাঁপা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান এ জনপ্রতিনিধি।
