জি.এম.বাবু. রাজগঞ্জ (যশোর) থেকে ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার হলুদ চাষীরা চলতি বছরে হলুদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটা”েছন। গত বছর ১২শ টাকা প্রতি মন হলুদ বিক্রি হলেও বর্তমান বাজারে তা বিক্রি হ”েছ ৫শ টাকা।
এলাকার চাষিরা জানান, এ বছর হলুদের ফলনও ভাল হয়নি! তারপর বাজার মূল্যও ভাল যা”েছ না। যে কারনে হলুদ চাষিরা চরম হতাশার মধ্য রয়েছেন। তবে এ অঞ্চলের চাষিদের প্রতি বিঘা জমিতে এবার লোকসান গুনতে হবে ১০ থেকে ১৫হাজার টাকা বলে জানা যায়। এ অব¯’ায় বর্তমান সরকার যদি চাষিদের প্রতি নজর না রাখেন সে ক্ষেত্রে আগামীতে হলুদের চাষ একেবারেই কমে যাবে বলে আশংকার কথা জানালেন ক্ষতিগ্র¯’ চাষিরা।
সোমবার সকালে সরজমিনে কথা হয় মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার ঝাঁপা গ্রামের হলুদ চাষি শহিদুল ইসলাম ও একই গ্রামের সোহরাব হোসেনের সাথে তারা জানান, এবার লীজ নিয়ে হলুদ চাষ করেছেন ১৫বিঘা জমিতে। প্রতি বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ১০হাজার টাকা। রোপন করতে প্রতি বিঘাতে বীজ হলুদ লেগেছে ৬ মন। যার ক্রয় মূল্য ছিলো ২০হাজার টাকা। রোপন খরচ ৩হাজার টাকা। সব মিলিয়ে লিজ নেওয়া ১বিঘা জমি থেকে হলুদ বাড়ি আনতে খরচা প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এ বছর বিঘা প্রতি জমিতে হলুদ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। বর্তমানে কাঁচা হলুদের বাজার মূল্য চলছে প্রতিমণ ৪শ টাকা থেকে ৫’শ ৫০ টাকায়।
মল্লিকপুর গ্রামের কাসেম আলী ও ডুমুরখারি গ্রামের ফজলুর রহমান আরো বলেন, এ দুই গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার এ চাষের সাথে জড়িত। দীর্ঘদিন এককভাবে হলুদ চাষ করার ফলে গ্রামটি হলুদ গ্রাম নামে এলাকায় পরিচিত। বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নে এ গ্রামটির অব¯’ান।
সোমবার সরেজমিনে রাজগঞ্জ এলাকার কয়েকটি গ্রামে গেলে চোখে পড়ে প্রতিটি পরিবার যেন হলুদ পরিস্কার নিয়ে ব্যস্তসময় কাটা”েছন। খোঁজ-খবর নিয়ে জানাযায়, এ সকল গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের চাষ যোগ্য নিজের জমি খুবই কম। এলাকার কৃষকরা চড়া মূল্য দিয়ে অন্যের জমি লীজ নিয়ে হলুদ চাষের মধ্য দিয়ে জীবন জীবিকার নির্বাহ করে থাকেন।
রাজগঞ্জ এলাকার চাষী শাহজাহান কবির ও গোলাম হোসেন লীজ নিয়ে এবার হলুদ চাষ করেছেন ১৭ বিঘা জমিতে। কেমন ফলন পেয়েছেন এমন প্রশ্ন করতেই নির্বাক হন তিনি। জানালেন, বাজারে হলুদের যে দাম তাতে আর বেঁচে থাকার কোন উপায় দেখছি না। এই মূহুর্তে বর্তমান সরকার যদি হলুদ চাষিদের জন্য কিছু করে তাহলে তাদের পুঁজি ঘরে আসবে।
ফলন ও বাজারের মূল্য উল্লেখ করে হানুয়ার গ্রামের চাষী মোস্তফা আক্ষেপের সাথে জানান, অসহায় হলুদ চাষীদের অব¯’া দেখে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্টরা যেন বিষয়টি দেখে ও না দেখার ভান করছে।
এছাড়া রাজগঞ্জ অঞ্চলে লীজ নিয়ে চাষী মোশারফ হোসেন হলুদ চাষ করেছেন ৫ বিঘা জমিতে, মোহাম্মদ পলাশ হোসেন চাষ করেছেন ১ বিঘা, মিলন হোসেন হলুদ চাষ করেছেন ২ বিঘাতে, ইউসুফ আলী ১ বিঘা, রফিকুল ইসলাম কাকু ২বিঘা, পরিতোষ কুমার ১ বিঘা, বকুল হোসেন ১ বিঘা, রফিকুল ইসলাম রাঙ্গা ২ বিঘা, আইউব হোসেন ১, আব্দুর রউফ ২, বদরউদ্দিন, রেজাউল ইসলাম, ইনছান আলী ও আব্দুস সাত্তারসহ এ গ্রামের চাষীরা এবছর হলুদ চাষ করেছেন প্রায় পৌনে ১শ বিঘা জমিতে।
মহামারি করোনার মধ্যও গত বছর হলুদের বাম্পার ফলন ও মূল্য বৃদ্ধি থাকায় এলাকার অধিকাংশ চাষিই ধার দেনা করে এবার ব্যাপক হারে হলুদ চাষ করেছিলেন। সূত্রমতে, উপজেলার রাজগঞ্জসহ পশ্চিমাঞ্চলের এ গ্রামগুলোতে এবার হলুদ চাষ করা হয়েছে প্রায় ১’শ ২০ হেক্টর জমিতে। ফলে চলতি বছরে হলুদের ফলন ভাল না হওয়া, বাজার মূল্য একেবারেই নিন্মমুখী হওয়ায় রাজগঞ্জ এলাকার চাষীরা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটা”েছন।

