রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাজগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত বোরো ধান নিয়ে চিন্তিত

আরো খবর

রাজগঞ্জ (যশোর) অফিস ॥

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে বোরো ধানের ভাল ফলন হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অশনির প্রভাব, পানিতে ধান নষ্ট হওয়া, বাজার মূল্যে কম, সরকারি ধান ক্রয়ে শর্তের বেড়াজালে দিশেহারা শতশত কৃষক তাদের উৎপাদিত বোরো ধান নিয়ে চিন্তিত।
সূত্রমতে, চলতি বোরো মৌসুমে অধিকাংশ পাকা ধান ক্ষেতে থাকা অবস্থায় অশনির পানিতে তলিয়ে যায়। তলিয়ে যাওয়া ওই ধানে গজ ফুটে যাওয়া ও বিবর্ণ হয়ে মুল্যে একেবারেই কমে যায়। প্রতি একর জমি আবাদে কৃষকের কমপক্ষে খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬হাজার টাকা। প্রতি একর জমিতে এবার বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ ৬০মন। প্রতি মন ভাল মানের ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে ১হাজার ১৫০টাকা থেকে ১হাজার ২০০টাকা।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নে ২৯হাজার ৬শ ৫০ হেক্টর জমির বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা পূর্বের চেয়ে প্রায় দেড়শ হেক্টর বেশি। কথা হয় ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের কৃষক আসলাম গাজী, গোলাম মোস্তফা, ওসমান গণি, গোলাম হোসেন, ইসহাক আলী, শাহজাহান আলী, রুহুল কুদ্দুস, মাহবুর রহমান মোশারফ হোসেন ও রাজগঞ্জ কলেজ পাড়ার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তাদের কৃষকদের ক্ষেতে কেটে রাখা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই তলিয়ে যাওয়া ধান পানি থেকে উপরে তুলতে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি বিচালিগুলো সব পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাদের গো খাদ্য’র ও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
হানুয়ার গ্রামের অপর কৃষক ঝাঁপা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল চন্টা জানান, অশনির প্রভাবে তার দুই বিঘা জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। পরে পানিতে থাকা ওই ধানের চারা ও বের হয়েছিল। বর্তমানে এ ধান বাজারের কোন ধান ব্যবসায়ী নিতে আগ্রহী নন। পানিতে ধান ও বিচালি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি চলতি বোরো মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছেন।
চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ইচানি গ্রামের কৃষক টুটুল হোসেন ও রামনাথপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, তাদের প্রায় ১০ বিঘা জমির ধান পানির নিচে ছিল। অশনির প্রভাবে বিচলিসহ তাদরে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোহিতা ইউনিয়নের কৃষক আমিনুর রহমান, রাজু আহম্মেদ ও রুপচাঁন আলী জানান, তাদের প্রায় ১৫ বিঘা জমির কেটে রাখা বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। ঝাঁপা ইউনিয়নের জোঁকা গ্রামের চাষি নুর মোহাম্মদের চার বিঘা জমির কেটে রাখা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। তার দাবি ৪০জন শ্রমিক নিয়েও ক্ষেতে কেটে রাখা বোরো ধান শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ খাঁন, ফারুক হোসেন, আকবার আলী, আনোয়ার হোসেন ও মিলন খাঁন জানান, অশনির প্রভাবে তাদের ক্ষেতে কেটে রাখা বোরো ধান এক হাত পানির নিচে থেকে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। হরিহরনগর ইউনিয়নের কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল কাদের ও শৈলেন বাবু, খেদাপাড়া ইউনিয়নের কাসেম আলী, খোঁকা ও সবুর হোসেন জানান, বৃষ্টিতে তাদের প্রায় তিন একর ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এই ৬টি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্থ শতশত কৃষকেরা জানান, অশনির প্রভাবে পানিতে ধান ও বিচালি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া চলতি বোরো মৌসুমে তারা একেবারেই সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। পাশাপশি এসকল এলাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে গো খাদ্যের। অনেকেই গো খাদ্যের তীব্র সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে অল্প মুল্যে হালের একমাত্র গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ