জি.এম.বাবু ॥ বাংলাদেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চালের সীমান্তবর্তী জেলা যশোর। দেশে পুরাতন যে কয়টি জেলা আছে তার মধ্যে যশোর জেলা অন্যতম। এ জেলা থেকে ২২কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রাজস্বী রাজগঞ্জ বাজার। প্রায় দুইশ বছরের অতি পুরাতন রাজগঞ্জ বাজারটি যেন পর্যাটকদের কাছে এখন একটি প্রাকৃতিক সুন্দর্যের স্থানে পরিণত হয়েছে।
মনিরামপুর উপজেলার বৃহত্তর কপোতাক্ষ নদ ও ঝাঁপা বাওড়ের তীর ঘেষা সুজলা সুফলা শষ্যা শ্যামোলা সুন্দর্যের সেই ঐতিহ্যবাহী রাজস্বী রাজগঞ্জ বাজার। ঝাঁপা বাওড়ের সেই কুল কুল ধ্বনি আর রাজগঞ্জ বাজারের চারপাশ ঘেরা মাঠভরা সবুজ শষ্যের ভঙ্গিমা, গাছে গাছে পাখির নাচন এবং ছায়া ঘেরা নিবিড় পরিবেশ। বৃহত্তর মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের বিস্তৃর্ণ এলাকা ব্যাপি রয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ঐতিহ্যবাহী রাজগঞ্জ অঞ্চলের এক একটি গ্রাম যেন সুন্দর্যের স্বর্গপুরী। ছায়া ঢাকা পাখি ডাকা এ অঞ্চলের গ্রামগুলো যেন প্রকৃতির সাথে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। সবুজ ফসলের মাঠে বাতাসের ঢেউ। বনে বনে ফুল আর ফলের গাছ। এখানে রয়েছে দেশের বৃহত্তর দুটি ভাসমান সেতু। রয়েছে ঝাঁপা বাওড়ে নৌকা চলার দৃশ্য ও মাঝি মাল্লার গান। সেই সাথে রয়েছে এ অঞ্চলের কৃষান কৃষানিদের ব্যস্ততা। এসব মনোমুগ্ধকর নানা বর্ণ ও বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক দৃশ্য। যা প্রতিনিদিন জেলা ও উপজেলার শতশত পর্যাটককে মুগ্ধ করে। প্রিয় পাঠক আপনারা ঐতিহ্যবাহী রাজগঞ্জের ইতিহাস আর ঐতিহ্য ও অবস্থান জেনে হয়তো খুশিই হবেন।
ঐতিহ্যবাহী রাজস্বী রাজগঞ্জ বাজার অতিপ্রাচীন একটি বাজার। যতদুর জানা যায়, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার মধ্যে রাজগঞ্জ বাজারই সব থেকে পুরাতন একটি বাজার। এই বাজারের নাম করন থেকেই বুঝা যায় রাজগঞ্জের জন্ম রাজস্বীক মর্যাদায় হয়েছে। তৎকালিন রাজা ও তাদের প্রজারাসহ ইংরেজনীল কুঠিয়াল সাহেবরা এখানে কুঠিবাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ইংরেজদের প্রয়োজনে বৃহত্তর ঝাঁপা বাওড়ের তীরে পল্লীর সুন্দর পরিবেশে গড়ে ওঠে অতি ছোট একটি বাজার। ওই সময় যার নামকরন করা হয় রাজস্বী রাজগঞ্জ বাজার।
ঐতিহ্যবাহী এই বাজারের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সেই আমলেই এখানে নির্মাণ করা হয় পোষ্ট অফিস, সাবরেজিষ্ট্রি অফিস, মাইনার স্কুল নামের একটি মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলার বৃহত্তর একটি যৌনপল্লী। সেই অতি পুরাতন ছোট একটি বাজার আজ একটা বড় শহরে পরিণত হয়েছে। ভৌগলিক দিক থেকে এর অবস্থান ভাল হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে এতদাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তর স্থানীয় একটি বাজার। কপোতাক্ষ নদ ও রাজগঞ্জ বাওড়ের তীরে বাজারটি হওয়ায় এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বেড়েছে বেশ। যে কারণে বহু পুরাতন ঐতিহ্যবাহী রাজগঞ্জ বাজারটিকে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার দ্বিতীয় স্বয়ংসম্পন্ন শহর বলা হয়।
এখানে রয়েছে জাতির পিতার স্মৃতিজড়িত বিশাল অডিটোরিয়াম, ঝাঁপা দ্বীপ, বিশাল খেলার মাঠ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীমসহ এবতেদায়ি মাদ্রাসা, সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, বালিকা বিদ্যাপীঠ, অসংখ্য সরকারি বে-সরকারি ব্যাংক, বিভিন্ন বীমা অফিস, খাদ্যগুদাম, পোষ্ট অফিস, রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, পশুপ্রজনন কেন্দ্র, গরু-ছাগলের হাট, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, তহশীল অফিস, ৫৫টি এনজিও অফিস, পাবলিক লাইব্রেরী, সাংস্কৃতিক র্চ্চাকেন্দ্র, জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষার কেন্দ্র, এস.এসসি ও এইচ এসসি পরীক্ষা কেন্দ্র, দাখিল ও আলীম এবং ফাযিল পরীক্ষা কেন্দ্র, তুলা অফিস, বৃহত্তর দু’টি ভাসমান সেতু, মসজিদ, মন্দির, ৫৫টি সুপার মার্কেট ও সাড়ে ১২শ ছোট বড় দোকান ও আপ্যায়ন হোটেল এন্ড মিঠাই ঘরের মত নামিদামি একাধিক বিলাস বহুল খাবারের হোটেল। এছাড়া কৃষি পূন্যের জন্য শহরখ্যাত রাজগঞ্জ বাজার প্রসিদ্ধ। যোগাযোগের ক্ষেত্রে লক্ষনীয় যে ৭টি সড়কে ২৪ঘন্টা পরিবহনসহ ছোট যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া পাকা সড়কের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রতিটা ইউনিয়ন ও গ্রামের সাথে রয়েছে রাজগঞ্জ বাজারের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

