শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাজগঞ্জ সড়ক খুড়ে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পথচারিরা

আরো খবর

রাজগঞ্জ (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের পুলেরহাট থেকে রাজগঞ্জ হয়ে কেশবপুর উপজেলার চিংড়া বাজার পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটারের জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌছে গেছে। ফলে চলাচলের অনুপযোগি ওই সকল সড়কে ভারি যানবাহন তো দুরের কথা ভ্যানগাড়ির চালকরা ও যাত্রী নিয়ে যেতে চাচ্ছেন না। কারণ এই সড়কে যাত্রিদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই।

বানিজ্যিক শহর রাজগঞ্জ বাজার থেকে শুরু করে মাহিদিয়া, বাগেরহাট, গোয়ালদাহ, পলাশী, রোহিতা, খেদাপাড়া, দোদাড়িয়া, হানুয়ার, মোবারকপুর পালপাড়া, শাহপুর, হাকিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক খোঁড়াখুড়ি ও কাটাকাটি অব্যাহত রয়েছে।

এ কারণে বৃহত্তর এই জনগরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচলরত মনিরামপুর, কেশবপুর, কলারোয়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, শার্শা ও যশোর সদর উপজেলার কয়েকলাখ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ১০মাস ধরে এ কার্যক্রম চলে আসলেও সড়কটির সার্বিক উন্নতির কোন লক্ষণ নেই বলে জানান ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।

ভূক্তভোগি এলাকাবাসি আরো জানান, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এসকল সড়ক গুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে ব্যবসা বানিজ্য ও সার্বিক উন্নয়ণের দিক থেকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়বে সড়ক সংলগ্ন ওই সকল এলাকাগুলো। ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্বি জীবনমানের উন্নতির জন্য বৃহত্তর সড়কটি দ্রুত মেরামত করে চলাচলের উপযোগি করা খুবই প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন জনান।

সূত্রমতে, জেলার পুলেরহাট থেকে কেশবপুর উপজেলার চিংড়া বাজার পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে খোঁড়াখুড়ি শুরু হয়। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সড়কটির সংস্কার ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০.৮৫৮ কোটি টাকা।

 

চুক্তি অনুযায়ি কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১২ নভেম্বর ২০২৫ সালে। কিন্তু সংস্কারের নামে সড়কটি সম্পূর্ণ খুড়ে ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌছে গেছে।
এদিকে খুড়ে ফেলে রাখা প্রধান সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ার একটু বর্ষা হলেই সড়কটিতে পানি জমে থাকে। জমে থাকা ওই পানির কারণে পথচারিসহ এলাকাবাসি প্রধান এ সড়ক দিয়ে ঠিকমত যাতায়াত করতে পারছেন না। হানুয়ার গ্রামের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম ও আড়ৎ ব্যবসায়ী ইমদাদ হোসেন জানান, প্রধান এ সড়কটি খোঁড়াখুড়ি করে ফেলে রাখায় মালামাল বহনকারি ট্যাক আসতে পারছে না। যে কারণে বর্তমানে তাদের ব্যবসা বানিজ্য প্রায় শেষের পথে বলে দাবি করেন এ দুই ব্যবসায়ী।

 

রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাছুদ কামাল তুষার জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঠিকমত স্কুলে আসতে পারছে না। রাজগঞ্জ পুলেরহাট সড়কের বাস চালক মিন্টু মিয়া জানান, প্রধান এ সড়টি খুড়ে ফেলে রাখায় আপাতত বাস চলচলা বন্ধ রয়েছে। আর বাস চলাচল ঊহৃ থাকায় পরিবার পরিজন খুবই কষ্টে আছি বলে দাবি করেন এ চালক। রাজগঞ্জ আঞ্চলিক নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, রাজগঞ্জ পুলেরহাট সড়কটি খোঁড়াখুড়ির কারণে যানবাহন তো দুরের কথা পায়ে হেঁটেও যাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়ি করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধিরগতির কারণে প্রধান এ সড়কের আজ এ অবস্থা।

 

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার জানান, প্রধান এ সড়কটির কাজ চলমান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। ভালো মানের কাজের জন্য এটুকু কষ্ট সবাইকে ভোগ করতেই হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ