মনিরামপুর/ কেশবপুর প্রতিনিধি:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলার ব্যস্ততম শহর মণিরামপুর বাজারের চিরাচরিত যানজট ও ফুটপাত দখলের চিত্র নতুন কিছু না ভুক্তভোগীদের জন্য। এনিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় কয়েক ডর্জন সংবাদ প্রচার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে বিদ্ধ হয়েছে সেবার নামে উদাসীনতার অভিযোগের তীর।কিন্তু তা কোন কাজে আসছে না।

যানজটের ভোগান্তির সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গরুহাট মোড় থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রায় ১কিলোমিটার ঢালাই রাস্তার ছোট বড় মিলিয়ে ৪৭টি গর্ত।এর আগেও একাধিকবার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পেলে রাস্তার গর্তের পুটিং দিয়ে দায় এড়িয়ে গেছেন। গেলো কয়েকদিনের টানা বর্ষনে সে সমস্ত গর্তে পানি জমে যানবাহনের যাতায়তে এখন খানা-খন্দে পরিনত হয়েছে।
সূত্র জানায়,২০২০-২১ অর্থ বছরে যশোরের রাজারহাট থেকে মনিরামপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে চারজন ঠিকাদার কাজ করেন। এর মধ্যে মনিরামপুর থেকে চিনেটোলা পর্যন্ত কাজটি সম্পন্ন করে মেসার্স কপোতাক্ষ এন্টারপ্রাইজ। তবে এই ঠিকাদারী কাজের সরেজমিন ও অফিসিয়াল ডকুমেন্টসের সাথে পাওয়া গেছে গড়মিল।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদাররা দীর্ঘ ৩৮ কিলোমিটার রাস্তার ঐ কাজে ব্যাপক নয়-ছয় করেছেন ।

যশোর সড়ক ও জনপদ(সওজ) বিভাগের আওতাধীন রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এ কাজের মধ্যে মনিরামপুর পৌর শহরের নির্মাণকৃত ঢালাই করা রাস্তার বেশ কয়েক জায়গায় বড় বড় গর্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলের স্থানে ঢালাইয়ের নিচে রডের মাথা বেরিয়ে এসেছে। গর্ত, ফাটল এবং রডের মাথায় পানি জমে দুরপাল্লার যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। বের হয়ে আসা রডের মাথায় লেগে দূর্ঘটনায় সম্প্রতি বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মনিরামপুর বাজারের কুলটিয়া মোড়, থানা মোড়, ফল বাজার, কালী মন্দির, প্রেসক্লাব গেট ও পূরবী সিনেমা হলের সামনে, ভেনাস পয়েন্টের সামনে,লিবার্টির সামনে,বড় বড় গর্তসহ ফাটলে সড়কের অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক।
রাস্তার পার্শবর্তী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,শুরু থেকেই ঠিকাদার এই সড়কে কাজে গড়িমসি করেছেন। বাজারের ভেতর সড়কের দুই পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। বাজারের বাইরে সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও তাতে ময়লা জমে থাকায় পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃষ্টির সময় ড্রেনে ময়লা পানি জমে মশার বংশ বিস্তারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এছাড়া, নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার ফলে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। রাস্তায় বড় বড় গর্তে গাড়ি পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ ব্যপারে ২০২৩ সালে কাজের বছর না পেরোতেই ফাটল ও গর্ত দেখা দিলে সে সময়,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রকৌশলী মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন ‘কংক্রিটের সমস্যা থাকায় সড়কের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল দ্রুত মেরামত করে দেয়া হবে।পরবর্তীতে সওজের কোন রকম জোড়া-তালিতে চলছিলো মহসড়কের ব্যস্ততম যানবাহন।
যশোর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া জানালেন,সড়কটি ব্যাস্ততম হওয়ায় জমাট প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই যান চলাচলে স্ট্রং না হয়ে নিচেই হাওয়া ঢোকাতে বেহাল দশা হয়েছে।
সওজ কর্মকর্তাদের তথ্যমতে,সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদারের জামানতের বিল এখনও পরিশোধ করা হয়নি।একাধিক ২টা নোটিশ দিলেও যোগাযোগ করেনি ঠিকাদারি ঐ প্রতিষ্ঠান।
এদিকে নাম মাত্র পরিছন্নতা কর্মী দিয়ে কয়েকদিন যানজট এড়াতে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন কাজ করালেও আবারও সেই ভোগান্তির জাতাকলে পৃষ্ঠ হচ্ছে মণিরামপুর বাসী। অবশ্য গেলো মাসে যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভা ভবনে যানজট নিরসনের জন্য কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যাক্তি,গনমাধ্যম ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিদিদের সামনে আগামীতে রাস্তা প্রশস্তকরনের দাবি উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না।কার্যত তা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। অন্যদিকে রাস্তার গর্ত ও নি¤œমানের কাজের বিপরীতেও তেমন কোন পজিটিভ পদক্ষেপ নেই সড়ক ও জনপদ বিভাগেরও।ফলে রাস্তার বেহালদশার চিত্র দিন গেলেই বেড়েই চলেছে।
কেশবপুর প্রতিনিধি জানান, কংক্রিটের ঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ নামকাওয়াস্তে মেরামত করলেও একদিন না যেতেই পূর্বে অবস্থায় ফিরে আসে। রাস্তা দুই ধারে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রত্যেকদিন ৩৮কিলোমিটার রাস্তায় কোথাও না কোথাও মালবাহী ট্রাকগুলি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যাচ্ছে।
নেই পর্যাপ্ত গাইড ওয়াল বা রাস্তার সীমানা মার্কিং রঙ্গিন খুঁটি। মনিরামপুরের পৌরসভার মধ্যভাগে অবস্থা বড়ই করুন। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ৩৮ ফুট রাস্তা চওড়ার স্থলে ২২ ফুট-এ সীমাবদ্ধ থাকে। এজন্য প্রত্যেকদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের মধ্যে যানজট লেগেই থাকে। মনিরামপুর শহর পার হতেই ১৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নষ্ট হয়ে যায়।
একনেকের পাশ হওয়া রাস্তায় চুকনগর অংশে ওয়াচ টাওয়ার এবং গোল চক্করের ব্যবস্থা থাকলেও সেই অর্থ কাটছাঁট করে নকশা থেকে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। একই অবস্থা রাজারহাট থেকে চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রাস্তা। এই সড়কে যাত্রীদর দুর্ভোগ নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে।
কেশবপুর শহরের ট্রাক চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, সড়কে গর্ত এবং ভাঙ্গা-চোরার কারণে ট্রাকে ড্যামারেজ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই অভিযোগ করেন মনিরামপুর শহরের সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্বাস উদ্দিন।তিনি বলেন অবিলম্বে সড়কটির টেকসই উন্নয়ন এবং লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থ নেয়া দরকার।

