শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাতে সড়ক দুর্ঘটনার মরণ ফাঁদ অবৈধ এলইডি লাইট,যশোরে একমাসে মৃত্যু ১০

আরো খবর

এম.এইচ.উজ্জলঃ যশোরসহ দেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। দুর্ঘটনার এ ব্যাপকতার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। বর্তমানে এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে যানবাহনের এলইডি লাইট। অত্যধিক উজ্জ্বল ও সাদা আলোর কারণে ইদানীং অনেকেই যানবাহনের হেডলাইট হিসাবে এই বাতি ব্যবহার করছেন। এছাড়া দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে হলুদ কালারের এলইডি হেডলাইটের। আর এসকল হেড লাইটের কারনে বিপরীত দিক থেকে চলাচল করা অন্যান্য গাড়ীর চালকরা তীব্র আলোয় কিছুই দেখতে পায়না, এর ফলে বড় ধরনে দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির এটি একটি কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরজমিনে দেখা গেছে যশোরের বিভিন্ন সড়কে এ ধরনের লাইটের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এসকল হেডলাইটের জন্য। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ ধরনের হেডলাইট বাস, ট্রাক ধেকে শুরু করে পিকআপভ্যান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, এমনকি ব্যাটারিচালিত বাহনেও ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে প্রায় সব ধরনের যানবাহনে হেডলাইট হিসাবে শুরু হয়েছে এর ব্যবহার। কোনো কোনো যানবাহনে হেডলাইট হিসাবে ব্যবহারের পাশাপাশি আরও কয়েকটি করে বিভিন্ন কালারের এলইডি লাইট লাগিয়ে ব্যবহার করা হয়।

এসব যানবাহন যত্রতত্র দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। তবে বাস ও ট্রাকের মতো বেশি উচ্চতার ভারী যানবাহনগুলোই দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে বেশি। এ অবস্থায় যানবাহনে এলইডি লাইটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছে সচেতন মহল। বস্তুত, যানবাহনে এ ধরনের লাইটের ব্যবহার আইনত অবৈধ। একটি গাড়িতে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান যেভাবে হেডলাইট ও অন্যান্য লাইট লাগিয়ে দেয়, এর বাইরে অন্য যে কোনো ধরনের লাইট লাগানো বেআইনি। তাছাড়া যানবাহনে কোনো পরিবর্তনের েেত্র বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপরে অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ নিয়ম অনেকেই মেনে চলেন না। দেখা যায়, যে যার ইচ্ছামতো গাড়িতে এলইডি লাইট লাগিয়ে ব্যবহার করছেন।

এ ব্যাপারে কর্তৃপরে কঠোর হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের লাইট আমদানি ও বিক্রির েেত্রও একই কথা প্রযোজ্য। এদিকে স্থানীয় পত্রিকার খবর প্রকাশের মাধ্যমে জানা যায়, এ মাসে জেলায় ৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০জন নিহত হয়েছে এবং এ ঘটনায় আহত হয়েছে অনন্ত ৮জন। তার মধ্যে রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬জন এবং বাকি ৪জন দিনে নিহত হয়েছে।
এছাড়া এলইডি লাইট মানুষের চোখের জন্যও মারাত্মক তিকর। চু বিশেষজ্ঞদের মতে, সহনীয় মাত্রার বেশি আলোকরশ্মি উৎপন্ন করায় এলইডি লাইট সরাসরি চোখের রেটিনায় আঘাত করে। এতে কর্নিয়াসহ দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক তির আশঙ্কা থাকে। কাজেই যানবাহনে এ ধরনের লাইটের ব্যবহার পরিহার করা উচিত।

মোটরসাইকেল চালক আরিফ হোসেন জানান, সন্ধার পরে এ ধরনের লাইটের জন্য রাস্তায় মোটরসাইকেল চালানো কষ্ট হয়ে যায়। এ লাইটের জন্য আমি সাম্প্রতি একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রা পেয়েছি। আমি মনে করি এ ধরনের লাইট ব্যবহার কারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদপে নেওয়া উচিত। বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক নাসিরুল আরিফিন জানায়, এধরনের লাইট লাগানো সম্পুর্ন বেআইনি।

কিন্তু বিআরটিএ তে এ ধরনের কোন আইন নাই। এ বিষয়ে আমি হেড আফিসেও কথা বলেছি। তাছাড়া এর ভুক্তভোগী আমি নিজেও। তবে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ বিষটা আমি তুলে ধরেছি। এ বিষয়ে আমরা নিজেরা সচেতন না হলে দুর করা সম্ভব না। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে যশোর ট্রাফিকের এক সার্জেন্ট জানায়, এ ধরনের লাইট সম্পুর্ন অবৈধ।

এ বিষয়ে আমাদের আইন আছে কিন্তু মানুবিকতার জন্য আমরা এটা ধরিনা। তবে এ লাইটের ব্যবহার ৯৯ পার্সেন্ট বলে জানান তিনি। বারোবাজার হাইওয়ে থানা ওসি মঙ্জুরুল আলম বলেন, এধরনের লাইটের বিষয়ে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। আমরা এ ধরনের হেডলাইট দেখলে মামলা দিয়ে থাকি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি এটা বন্ধ করার। কিন্তু মানুষ নিজে সচেতন না হলে মামলা দিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ