নড়াইল প্রতিনিধি:নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অশ্লীল ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাসের দেহরক্ষী আনসার সদস্য আকাশ বিশ্বাসকে (২৭) গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলনে চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত আকাশ বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আকাশ বিশ্বাস খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর গ্রামের মৃত নিহার বিশ্বাসের ছেলে। গত দুই বছর যাবৎ আনসার সদস্য আকাশ লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করছেন।
জানা গেছে, লোহাগড়ার ইউএনও অনিমেষ বিশ্বাসকে অশ্লীল ভিডিও প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন অজ্ঞাত চাঁদাবাজ। এ ঘটনায় ইউএনও’র স্ত্রী বিপাশা বিশ্বাস চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লোহাগড়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার সূত্র ধরে ইউএনও’র ওই দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও অনিমেষ বিশ্বাসের স্ত্রী কোন বক্তব্য প্রদান করতে রাজি হননি। তবে ইউএনও’র দাবি, তাঁর স্ত্রীর করা চাঁদাবাজি মামলার ব্যাপারে তিনি প্রথমে কিছু জানতেন না। তিনি ওই সময়ে অফিসে ছিলেন। পরে তাঁকে মামলার বিষয়ে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
অভিযুক্ত দেহরক্ষী আকাশের ভাই সমর বিশ্বাস বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হোক। তাতে যদি আকাশ অপরাধ করে থাকে, তবে তার শাস্তি হোক। কিন্তু সে যদি অন্য কোনো আক্রোশের শিকার হয়ে এ মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই সঠিক তদন্ত করে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় বলেন, একটি চাঁদাবাজি মামলায় সম্পৃক্ততার কারণে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি, তিনি আনসার সদস্য ও ইউএনওর দেহরক্ষী। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হবে। এ ছাড়া চাঁদাবাজ চক্রকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যবহৃত নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে কল করে জানান, একটি অশ্লীল ভিডিও আছে, যেটির জন্য ১০ লাখ টাকা না দেওয়া হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়া হবে। একাধিকবার অজ্ঞাতনামা চাঁদাবাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে বলেন টাকা না দিলে নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাসকে জখমসহ হত্যার হুমকি প্রদান করে।
ভয়ে বিপাশা বিশ্বাস তাঁর স্বামীর সম্মান ও জীবনের নিরাপত্তায় পর্যায়ক্রমে হুমকিদাতার ব্যাংক একাউন্টে ৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা দেন। হুমকিদাতার নির্দেশনায় টাকা পাঠানোর জন্য সেদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি নিয়ে পৌরসভাধীন লক্ষীপাশাস্থ ব্রাক ব্যাংক এটিএম বুথে যান টাকা পাঠানোর জন্য। এ সময় ইউএনও’র গাড়িতে থাকা তাঁর দেহরক্ষী আনসার সদস্য আকাশ পরামর্শ দেন ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে ওই একাউন্টে দ্রুত টাকা পাঠানো যায়। তার এ কথায় আনসার সদস্য আকাশের প্রতি তাঁর সন্দেহ জাগে। ওই সূত্র ধরে আনসার সদস্য আকাশকে সন্দেহ করেন ইউএনওর স্ত্রী। এর পেক্ষিতেই আকাশকে সন্দেহজনক ভাবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) মামলা রুজু করে পরদিন বুধবার (১৩ মার্চ) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আকাশকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। লোহাগড়া থানার, মামলা নং- ১১/৬৫।

