শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 শনিবার ইসমাত আরা সাদেকের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী, কেশবপুরে পৃথক কর্মসূচির নিয়েছে দু’পক্ষ

আরো খবর

রুহুল কুদ্দুস: শনিবার সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকেশবপুরের রুপকার ইসমাত আরা সাদেক-এর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী ।দিবসটি উপলক্ষে তাঁর প্রিয় কেশবপুরে পৃথকভাবে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং সাদেক অনুসারিরা একই সময় আলাদাভাবে কর্মসূচি নেওয়ায় সাধারণ নেতা কর্মীর পড়েছেন দ্বিধা দ্বন্ধে।তারা কোন অনুষ্ঠানে যাবেন আর কোন অনুষ্ঠানে বর্জন করবেন তা নিয়ে চলছে স্নায়ু যুদ্ধ।
২০২০ সালের ২১ জানুয়ারী তিনি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইসমাত আরা সাদেকের স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক সাবেক শিামন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ছিলেন। সাবেক এই সচিব আওয়ামী লীগ থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অবহেলিত কেশবপুর উন্নয়নে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা রূপে স্বীকৃতি প্রদান এবং সুন্দরবনকে ইউনেস্কোরঅধীনে এর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে সফল হয়েছিলেন। যার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১০ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর পুত্র তানভীর সাদেক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং কন্যা নওরীন সাদেক একজন স্থপতি প্রকৌশলী। ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর স্বামী এ এস এইচ কে সাদেক মৃত্যুবরণ করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর ইসমাত আরা সাদেক যশোর-৬ (কেশবপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তাকে প্রাথমিক ও গণশিা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন। কেশবপুর উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।
২০২০ সালের ২১ জানুয়ারী বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আবু সারাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে বিকাল ৪ টায় আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যশোর-৬ কেশবপুর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন ও থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজুর রহমান মফিজ। অপর দিকে জেলা পরিষদ বাংলোয় ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যূ বার্ষকী পালনের কর্মসূচি নিয়েছে সাদেক অনুসারিরা। গতকাল দুপই একইসময় কর্মসূচি ঘোষনা করে প্রচারণা চালান। বিষয়টি নিয়ে নেতা কর্মীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃস্টি হয়েছে। সাদেক অনুসারিরা বলেছেন, তারা আগে কর্মসূচি ঘোষনা করে সাদেক অডিটরিয়াম বুকিং দেন। অতিথি আমন্ত্রনও করা হয়। রহস্যজনক কারণে তাদের বুকিং বাতিল করে সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের প থেকে কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছে। ওই কর্মসূচির আমন্ত্রণ পত্রে স্বার করেছেন উপ-দপ্তর সম্পাদক মনোজ তরফদার। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযো মাধ্যমে সমালোচনা ঝড় উঠেছে। এদিকে পাল্টা পাল্টি কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ নেতা কর্মীরা ভুগছেন দ্বিধা দ্বন্ধে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ