শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শার্শায় পরিবারের হাল ধরতে দেশ ছেড়েছিলেন রনি, ফিরলেন কফিনে

আরো খবর

বিশেষ প্রতিনিধি: পরিবারের হাল ধরতে আড়াই বছর আগে পাড়ি দেন মালয়েশিয়ার। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে আত্মীয় পরিবারহীন বিদেশের মাটি থেকে লাশ হয়ে ফিরলেন। গত ৫ জুলাই সকালে মালয়েশিয়ার শ্রীরামবাং শহরে ক্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় শার্শার যুবক রনি। মৃত্যুর ৭ দিন পর মালয়েশিয়া থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছালো রনি (৩০) এর মৃতদেহ। রনি যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বাগুড়ি বেলতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহমুদ সরদারের ছেলে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৫৫ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রনির নিথর দেহ পৌঁছায়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভোর ৫ টায় স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এসময় রনিরে পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

পরে অ্যাম্বুলেন্সে শুক্রবার সকাল ১০ টায় মরদেহ পৌছায় রনির গ্রামের বাড়ি বাগুড়ী গ্রামে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। পরে শুক্রবার জু্ম্মার নামাজের পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গত শনিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯ টায় মালয়েশিয়ায় ক্রেন দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। তিনি মালয়েশিয়াতে কানেক্টেশন শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আড়াই বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন রনি। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। শুরু থেকেই নিয়মিত কষ্ট করতেন সংসারের হাল ধরার জন্য। কিন্তু সেই পরিশ্রমেরই মাশুল দিতে হলো তাকে জীবন দিয়ে। নিহত রনি বাগুড়ী গ্রামের সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ আলীর ছেলে।

রনির অকাল মৃত্যুতে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল হাসান জহির, কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহ প্রমুখ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ