নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বসতপুরে ফিলিং স্টেশন দখলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন বসতপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন,তার মালিকানাধীন “মেসার্স আনোয়ার ফিলিং স্টেশন” দখল করার জন্য প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে এবং বিএনপি’র নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা করছে। তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে মৃত গোলাম কিবরিয়ার কাছ থেকে তিনি ১৭ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
আনোয়ার হোসেন দাবি করেন,পরবর্তীতে আর্থিক সংকটে পড়া গোলাম কিবরিয়াকে তিনি এক কোটি বিশ লাখ টাকা দিয়ে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেন। ২০২২ সালে গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা পাম্প দখলের চেষ্টা চালায় এবং খুলনা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে তিনি মামলা দায়ের করলেও পরে প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে এবং শেষ পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে গোলাম কিবরিয়া তার আরেকটি “তনিমা ফিলিং স্টেশন” (১১৫ শতক জমিসহ) জামাল হোসেনের নামে দলিল করে দেন। এর ভিত্তিতে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে খুলনার বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে নতুন লাইসেন্স ইস্যু হয়, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে।
আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, প্রায় ১৮-২০টি মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে, যা নি¤œ আদালত থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেছে। তিনি বিএনপি’র সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে করা সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, মৃত গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা (৩৪) পাল্টা অভিযোগে জানান, ১৯৯৫ সালে তার বাবা ১৭ শতক জমি ক্রয় করে “মেসার্স গোলাম কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন” স্থাপন করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যান। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জমি ও পাম্প দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ভাই জামাল হোসেন।

