শেখ সেলিম, বেনাপোল প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলার ৩নং বাহাদুরপুর ইউনিয়নে টানা বর্ষণ ও ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
২৭ আগস্ট (বুধবার) বিকালে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সর্বাংহুদা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে আছে। এসময় দেখা যায়, গ্রামীণ জনপথ নৌকায় চলাচলের উপযোগী হয়ে পড়েছে। শিশু-কিশোররা ডিঙ্গি নৌকায় যাতায়াত করছে। রঘুনাথপুর, ঘিবা, ধান্যখোলা, বোয়ালিয়া এবং আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘ দেড় মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “ভারতীয় উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে গ্রামগুলো দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিবন্দী হয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা আমাদের এলাকায় পৌঁছেনি।”
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডা. কাজী নাজিব হাসান বলেন, “সীমান্তবর্তী এসব গ্রাম প্রায় প্রতিবছরই বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারিভাবে ইতিমধ্যে ১৬ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি ইউনিয়নে তা বিতরণও করা হয়েছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও বরাদ্দ সীমিত, তবে ধাপে ধাপে সব ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত পরিবার ত্রাণ সহায়তার আওতায় আসবে।”
এদিকে পানিবন্দী মানুষ জানায়, পানির কারণে কৃষিজমি তলিয়ে গেছে, গবাদি পশু দেখভালে বিপাকে পড়েছে তারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সংকটও দেখা দিয়েছে। দুর্গত মানুষের আশা—যত দ্রুত সম্ভব সরকারি ত্রাণ সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

