নিজস্ব প্রতিবেদক: বুধবার দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলার দাউদখালী গ্রামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা গ্রামের দুজন বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে জখম করে। পরে গ্রামবাসী প্রতিহত করতে গেলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা পালিয়ে যাওয়ার সময় দু’জনকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
দাউদখালী গ্রামের লোকজন একাট্টা হয়ে দুই সন্ত্রাসীকে আটকের পর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সন্ধ্যায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা জানান, দাউদখালী গ্রামের নিকারি পাড়ায় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলোট গ্রামের সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আজিবর বদ্দীর ছেলে সাজু বদ্দির নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে দাউদখালী গ্রামে হামলা চালায়। তারা স্থানীয় বিএনপি কর্মী জাহান আলী ধাবকের ছেলে আলী হোসেনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে । এসময় বাধা দিতে গেলে তার ভাই জাকির হোসেনকেও মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রামবাসী প্রতিহত করতে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসী সাজু বদ্দি পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলির শব্দে আরও লোকজন ছুটে এলে তারা আবারও গুলি ছোড়ে এবং নিজেদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পালানোর সময় গ্রামবাসী কালীয়ানী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে ইমরান হোসেন (৩৪) এবং পাঁচভুলোট গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আরিফ পারভেজ (২৩)কে আটক করে ।
খবর পেয়ে নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, আটক দুই সন্ত্রাসীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের আটক ও আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির দুটি খোঁসা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিকে সন্ধ্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, শার্শা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, বিএনপি নেতা খায়রুজজ্জামান মধুসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে যান এবং গ্রামবাসীকে শান্ত করেন।
গ্রামবাসীরা জানান, দাউদখালী গ্রামের নিকিরি পাড়ার আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কাদেরসহ কয়েকটি পরিবার শার্শা উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে বিএনপির নেতা কর্মীদের হামলাসহ নানা ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এতে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওইসব নেতাকর্মীরা বিএনপির কোন কর্মকান্ডে থাকতে পারবে না বলে ঘোষনা দেন। যা নিয়ে দ্ব›দ্ধ এবং পরে সংঘাতের রুপ নেয়।

