প্রসবিজ্ঞপ্তি:বাংলাদেশের শিল্পকলার ইতিহাসে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এবং এস.এম. সুলতান-এর মতো পূর্বসূরিদের দেখানো পথে, শিল্পের মাধ্যমে সমাজ গড়ার এক মহান লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল চারুপিঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এই অগ্রযাত্রার কাঠি হাতে নিয়েছিলেন গুণী শিল্পী ও ভাস্কর মাহাবুব জামাল শামীম।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত চারুপিঠ শুধুমাত্র একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পচর্চা ও গবেষণার প্রসারে নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিল্পের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানব জীবনের উন্নয়ন এবং একটি উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর শামীম যশোরের মাটিতে এই প্রতিষ্ঠানের বীজ বপন করেন, যা কালের পরিক্রমায় দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় চারুপিঠের বর্তমানে ভগ্নদশা। জীর্ণ ঘরবাড়ি আর সীমাবদ্ধতার মাঝেও এর কার্যক্রম থেমে নেই। শিল্পীরা তাদের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সময়ের দাবিতে সংস্কারের বড় প্রয়োজন অনুভব করছে। আর তা হলো তিন তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক মানসম্মত ভবন। এই নতুন ভবন তৈরির জন্য প্রয়োজন ৫ কোটি টাকা। চারুপিঠের এই স্বপ্ন পূরণের পথে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায় থেকে দাতারা অর্থ সহায়তা দেওয়া শুরু করেছেন, যা এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থারই প্রতিফলন। এই মহৎ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. আজাদুল কবির আরজু গতকাল ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করেছেন।
চারুপিঠ কেবল যশোর শহরের নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের শিশু বিকাশে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিল্পমনস্ক করে তোলায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুস্থ, সংবেদনশীল ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে চারুকলার গুরুত্ব অপরিসীম।
তাই, চারুপিঠের এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে যশোরবাসীর কাছে আমাদের বিনীত আবেদন
“যশোরের শিল্প ও সংস্কৃতির এই বাতিঘরটিকে উজ্জ্বল রাখতে চারুপিঠের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পে আপনারা উদারভাবে এগিয়ে আসুন। শিশু বিকাশের কেন্দ্র এবং উন্নত সমাজ গড়ার এই কারিগরদের পাশে দাঁড়ান। আপনাদের সহযোগিতা চারুপিঠের স্বপ্নের ভিত গড়তে সাহায্য করবে এবং এই প্রতিষ্ঠানটি আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর আলো দেবে।”
আপনার সামান্য সহযোগিতাও পারে চারুপিঠকে একটি আধুনিক মানসম্মত শিল্প গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তরিত করতে। আপনার সহায়তা আমাদের সম্মিলিত সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখবে।

