শ্যামল দত্ত, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছায় খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। রাতের শেষে কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমন বার্তা । আবহমান গ্রাম- বাংলা ঐতিহ্য খেজুরের রস সংগ্রহে উপজেলার মাঠে মাঠে গাছিরা প্রস্তুত করছে গাছ।
এ ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য উপজপলা প্রশাসন কয়এক বছর ধরে খেজুর গাছের প্রশিক্ষণ, সমাবেশ , খেজুর গাছের চারা রোপন ও খেজুরের গড় ও পাটালি মেলা শীত মৌসুমীতে হয়ে থাকে। অল্প কদিনের মধ্যে সবুজের বৃকচিরে অপু সৌন্দর্যে সকলের মন মাতিয়ে তুলবে মিষ্টি খেজুরের রস ও গুড়ের ঘ্রাণ। ভোর বেলায় থেকে চলবে রস সখগ্র। বিকালে চলবে গাছ পরিচর্যা কাজ।তুই মৌসুমিতে প্রান্তিক গাছরা প্রস্তুত নিচ্ছেন।
গ্রামে গ্রামে সকালের শিশিরে সাথে অনুমতি হচ্ছে মৃদু শীত।শনিবার ১১ অক্টবার) বিকালে সরজমিনে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়ন, নিয়ামতপুর ও হায়াতপুর গ্রাম ও স্বরুপদাহ ইউনিয়ন, সিংহঝুলী ইউনিয়ন এলাকায় গেলে চোখে পড়ে গাছিরা রস সংগ্রহ জন্য গাছ প্রস্তুতি করছে।
পাতিবিলা ইউনিয়ন নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল গাজী, নারায়নপুর ইউনিয়ন বাজেখানপু গ্রামের আব্দুল মান্নন, হাকিমপুর ইউনিয়ন মাঠচাকলা গ্রামের আব্দুল মারুপ,ধুলিয়ানী ইউনিয়নে ভাদড়া গ্রামের মামুন কবির পানু, বলেন আগাম খেজুরের গুড় ঠিক মৌসুমিতে শুরুতেই গাছ প্রস্তুতি শুরু করছি। খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ৫ বার চার্জ দিতে হয়। চলতি মাসে খেজুর গাছ রস সংগ্রহ গড় ও পাঠালি তৈরীননশুরু হবে। খেজুর গাছের রস দিয়ে বিভিন্ন রকমের পিঠা ও পায়েস খুব সুস্বাদু হয়।
সময়ের পরিবর্তনে হারিয় যেতেবসেছে অসংখ্য খেজুর গাছ। শহর থেকে ছলে আসে গ্রাম বাংলার খেজুরের রস খেতে। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচঞ্চল ছিলো চোখে পড়ার মত। তবে নতুন করে কেউ আর খেজুর গাছ তোলা-কাটার কাজ করতে যাচ্ছে না।
তবে খেজুর হচ্ছে্ আমাদের অর্থনীতি সংস্কৃতি সাহিত্য তথা জীবনধারা মিশে আছে। এই ঐতিহাকে যে কোন মূল্য রক্ষা করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ এখন উপজেলা জুরে প্রায়
বিলুপ্তর পথে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুস্মিতা সাহা খেজুরের গুড় জিআই পণ্যের তালিকায় নাম লিখেছেন।
এ বিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হোসাইন বলেন বাংলাদেশের অধিক অংশ অঞ্চলে খেজুর গাছ বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছকাটা শিল্প আয় ও দক্ষতা ভরা।ডাল কেটে গাছের শুভ্র মুখ জরার মধ্যেদিয়ে কৌশল রযেছে ধৈর্য ও অপেক্ষা পালা। মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ কদর বাড়েছে। খেজুর গাছিদের দক্ষতা উন্নয়ন করার জন্য প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও গাছি সমাবেশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসমিন জাহান বলেন যশোরের যশ খেজুরের রস আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিয্য রক্ষা করতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দু ধারে খেজুর গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। খেজুর রস ও গুড় ধরে রাখতে গাছিদের প্রশিক্ষণ ও সমাবেশ করা হয়েছে। যে সব গাছিরা তাদের পেশা ধরে রেখেছেন তাদেরকে অনুদান দেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

