শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শীতের আগমনী বার্তায় যশোরে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির রুপ

আরো খবর

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে যশোর জেলায় শীতের আগমন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভোরের ঘন কুয়াশা আর বিকেলের হিমেল বাতাসে যশোর শহর, ঝিকরগাছা, নাভারণ, বেনাপোল, মনিরামপুর, কেশবপুর, চৌগাছা ও সাতমাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল-বিকাল বদলে গেছে। কুয়াশায় ঢাকা সকাল, গরম চা, শীতের সবজি আর ফুলবাজার সব মিলিয়ে চারদিকে শীতের আমেজ।

যশোরের ঝিকরগাছা ও নাভারণ অঞ্চলে শীতকালীন সবজির চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। নাভারণের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, শীতের শুরুতে সবজির বৃদ্ধির হার দ্রুত হয়। বীজ ব্যবসায়ী মামুন বলেন, শীতকালীন সবজির চাহিদা বেশি থাকায় ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে। কৃষক আফসার হোসেন ও নারী কৃষক রাশিদা বেগম জানান, শীতের ফসলের পরিচর্যায় এখন অতিরিক্ত শ্রম দিতে হচ্ছে।

সাতমাইল এলাকার কাঁচা সবজির আড়তে সকাল থেকেই সরবরাহের চাপ বাড়ছে। আড়ত ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম বলেন, “শীতের শুরুতে ট্রাক–ভ্যানের চাপ বেড়ে যায়।” সবজি ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ক্রেতারা শীতকালে বেশি সবজি কেনেন, তাই বাজারও সরব থাকে।

বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় হিমেল বাতাসে পিঠা আর গরম চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমেছে। দোকানি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “শীতের শুরুতে গরম চা আর বিভিন্ন পিঠার বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে যায়।” বেনাপোল চেকপোস্ট বাজার কমিটির সভাপতি জানান, ভারতীয় সীমান্ত এলাকা এখন প্রায় বন্ধ থাকলেও সকাল–বিকাল বাইরে থেকে বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন। বিশেষ করে শীতের পিঠা–পুলি ও চায়ের জন্য পথচারী ও স্থানীয়দের ভিড় আগের তুলনায় বেশি। ঘন কুয়াশা থাকা সত্ত্বেও মানুষের উপস্থিতি কমেনি।

মনিরামপুরে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। কৃষক সোহেল রানা জানান, শীতকালীন সবজি তাদের আয়ের প্রধান উৎস।
কেশবপুরে খেজুর রস সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গাছি সাইদুর রহমান বলেন, শীত ঠিক মতো পড়লে এ বছর রসের উৎপাদন ভালো হবে। রস ব্যবসায়ী রফিকুল হোসেন জানান, শীতকালের রসই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

 

চৌগাছায় পিঠা আর চায়ের দোকানগুলোতে সকালে কুয়াশার মধ্যেও ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। দোকানি আমিনুল হক বলেন, শীতের সময় বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নারী উদ্যোক্তা রেশমা বেগমও জানান, ব্যস্ততা প্রতিদিনই বাড়ছে।

নাভারণ থানার অন্তর্গত গদখালী এখনো দেশের প্রধান ফুলচাষ অঞ্চল হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করছে। গোলাপ, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা ও হাসনাহেনাসহ বিভিন্ন ফুলের পরিচর্যা চলছে। ফুলচাষি মো. হাবিব বলেন, “ডিসেম্বরে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়, তাই এখনই ফুল সংগ্রহ ও বাজারজাত করার ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি।” ফুলচাষের জন্য গদখালীকে স্থানীয়রা ফুলের রাজধানী বলেন।

যশোর শহরের বড় বাজার, কালেক্টর মার্কেট, মুজিব সড়ক, আর এন রোড এবং চৌরাস্তা এলাকায় শীতের পোশাক কেনাকাটা শুরু হয়েছে। দোকানি হুমায়ুন কবির ও জয়নাল আবেদীন জানান, সোয়েটার, ডেনিম জ্যাকেট, ব্লেজার ও কম্বল বিক্রি শীতের শুরুতেই বেশি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস নামায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। আগামী সপ্তাহে শীত আরও জেঁকে বসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

শীতের আগমন যশোর জেলার বাজার, কৃষি, ফুলচাষ, পোশাক ব্যবসা ও স্থানীয় জনজীবনে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। কুয়াশা, সবজি, পিঠা–পুলি, খেজুর রস আর ফুলচাষ—সবকিছুতেই এখন শীতের ছোঁয়া।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ