একাত্তর ডেস্ক: শেখ হাসিনার চমকে বিএনপি হতবাক হয়ে গেলেন। রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় তিনি যে অনন্য উচ্চতায় নিজেকে পৌঁছেছেন সেটি আরেকবার প্রমাণ করলেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল তার তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পৌঁছে দেওয়া হয় ডা. মুরাদ হাসানকে। মুরাদ হাসান আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যে এত তড়িৎ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিবেন, এটি ছিলো বিএনপির জন্য আচমকা এবং বিস্ময়কর। বিএনপির নেতারা আজ স্বীকার করেছেন, শেখ হাসিনার চমকে তারা হতবাক হয়ে গেছেন। তিনি যে এত দ্রুত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এটি তারা জানতেন কিন্তু কল্পনাও করতে পারেননি যে মুরাদের ব্যাপারে এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় বলেছেন যে, শেখ হাসিনা বারবার এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েই আমাদেরকে পরাভূত করছেন। বিএনপির ওই নেতা বলেন যে, আমরা মুরাদের এই বিষয়টি নিয়ে একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের চিন্তা-ভাবনা করছিলাম। আমাদের দল যদি হতো তাহলে মুরাদকে এভাবে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। আর যার ফলে বিরোধীদল একটা সুযোগ পেত। কিন্তু আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি ঘটেনি। শেখ হাসিনা দ্রুত এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনগণের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়িয়েছেন বলে মনে করেন বিএনপির ওই নেতা। বিএনপি গতকালের বৈঠকজুড়ে ছিলো মুরাদ প্রসঙ্গ এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের আলোচনা সভায় সব নেতারাই ডা. মুরাদের সমালোচনা করেছিলেন, সরকার মুরাদের ব্যাপারে কি করছে সে ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলেন এবং মুরাদকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা যে এটি এত দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন, এটা তারা কল্পনাতেও ভাবেননি।
তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, শেখ হাসিনা বিরোধী দলের দাবি বা চাপের মুখে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না। বরং যেটি তিনি মনে করেন যথাযথ, জনগণের কল্যাণে এবং দলের আদর্শের অনুকূলে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে তিনি কোনো কুণ্ঠাবোধ করেন না। বাংলাদেশের কোন রাজনীতিবিদই অতীতে কখনও দলের একজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা মেয়রের বিরুদ্ধে এভাবে কঠোর, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করেননি। বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও বিএনপির নেতারা অনেক কুৎসিত, অরুচিকর এবং নোংরা কথা বলেছেন। ১৯৯১-৯৬ সালে ব্যরিষ্টার নাজমুল হুদা মুসলিম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছিলেন খোদ সংসদে। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি বেগম খালেদা জিয়া। এমনকি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময় বিএনপির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নোংরা, কুৎসিত, আপত্তিকর কথা বলেছিলেন। তখনো বেগম খালেদা জিয়া তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।
কেউ অপরাধ করলে সে যত বড় পদেই থাক না কেন, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত একমাত্র শেখ হাসিনাই দেখাতে পেরেছেন। শেখ হাসিনাই তার দলের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করার সাহস দেখিয়েছেন। শেখ হাসিনাই গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কার এবং মেয়র পদ থেকে বাদ দেওয়ার দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। শেখ হাসিনাই ডা. মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে বহিষ্কারের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। এটাই শেখ হাসিনার রাজনীতি। অন্যরা যা করতে পারে না শেখ হাসিনা সেটা অবলীলায় দৃঢ়তার সাথে করে থাকেন এবং এটিই বিএনপিকে অবাক করেছে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তে বিএনপির একটি ইস্যু ভেস্তে গেলো।
শেখ হাসিনার চমক, বিএনপি হতবাক

