শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শ্যামনগরের কৈখালীতে পরিকল্পিত চিংড়ি চাষে বাধা, ক্ষোভ স্থানীয়দের

আরো খবর

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয়দের সুবিধার্থে নোনাপানির অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ বন্ধ করে পুনরায় ধান চাষ শুরু হয়েছে। এতে করে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরলেও,কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর ১০ নম্বর গ্রামে চিংড়ি চাষ অব্যাহত রাখতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সংশয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু রাজনৈতিক মহল অদৃশ্য কারণে পরিকল্পিত চিংড়ি চাষে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে করে চিংড়ি চাষের সঙ্গে জড়িত শতাধিক পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

 

স্থানীয় চাষিদের মতে, যেসব এলাকায় ঐতিহ্যগতভাবে ও পরিকল্পিতভাবে নোনাপানি ব্যবহার করে চিংড়ি চাষ করা হয়, সেখানে এই কার্যক্রম চালু থাকা উচিত। কারণ চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিযোগ্য পণ্য, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরানপুর গ্রামের মুজিবর রহমান নামে এক চিংড়ি চাষি বলেন,“আমরা বহু বছর ধরে নিয়ম মেনে চিংড়ি চাষ করে আসছি। এতে পরিবেশের ক্ষতি না করে জীবিকা নির্বাহ করছি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক চাপ দিয়ে আমাদের কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

 

গত ৮ই জানুয়ারি কৈখালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে স্থানীয় গুটিকয়েক মানুষ সহ গ্রামের বহিরাগত কিছু লোকজন নিয়ে মানববন্ধন করেন মানববন্ধনে চেয়ারম্যান রহিম কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন এই গ্রামে কোনো নোনাপানি দিয়ে চিংড়ি চাষ চলতে দেওয়া হবে না।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ দিনের বিরোধের জেরে চেয়ারম্যান রহিমের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের ১০ নম্বারের গ্রামে ছোট একটা চিংড়ি চাষের ঘের থাকায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে প্রয়োজনীয় কর্মকা- চালাচ্ছে।

 

তবে এমন কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় সকল চিংড়ি চাষী সহ সাধারণ জনতা ৯ই জানুয়ারী একটা মানববন্ধন করে তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

এদিকে স্থানীয় কৃষকরাও চান, ধান চাষ ও চিংড়ি চাষ—দুইটি কার্যক্রম যেন এলাকাভেদে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়। এতে করে যেমন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সুগম হবে।

 

আরো পড়ুন

সর্বশেষ