রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শ্যামনগর খোলপেটুয়া নদীর তীরে অবৈধ করাতকল

আরো খবর

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর নওয়াবেঁকী বাজারে অবৈধভাবে এক ডজনেরও বেশি করাতকল গড়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই ইচ্ছামত গড়ে তোলা এসব করাতকল বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
এখানে দূর-দূরান্ত থেকে আনা কাঠ ছাড়াও পাশ্ববর্তী সুন্দরবনের গাছ চোরাইপথে এনে চেরাই করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি সুন্দরবনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, একের পর এক অবৈধ করাতকল গড়ে ওঠায় নওয়াবেঁকীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে বৃক্ষ নিধনের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া এসব করাতকলের অবস্থান সুন্দরবন লাগোয়া খোলপেটুয়া নদীর তীরে হওয়ায় রাতের বেলা অতি গোপনে সেখানে সুন্দরবনের কাঠ চেরাই করা হয়। তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে করাতকলগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরবনের মধ্যভাগ দিয়ে লোকালয়ের দিকে চলে আসা খোলপেটুয়া নদীর পূর্বপ্রান্তে নওয়াবেঁকী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সারিবদ্ধভাবে একে একে চৌদ্দটি করাতকল গড়ে উঠেছে। পাঁচ/ছয়জন করে শ্রমিক এসব করাতকলে সকাল হতে দিনের সুবিধাজনক সময়ে সেখানে জমিয়ে রাখা কাঠ চেরাইয়ের কাজ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বেশিরভাগ করাতকলে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ চেরাই করা হয়। চোরাকারবারিদের কাছ থেকে এসব কাঠ সংগ্রহের পর রাতেই চেরাই করে গাড়ি ভর্তি করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নওয়াবেঁকী বাজারের মো. আমিনুর জানান, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা করাতকলের কারণে এলাকার গাছ-গাছালি আশঙ্কাজনকহারে কমতে শুরু করেছে। আশপাশের এলাকা হতে ছোট-বড় গাছ কেটে এনে করাতকলে চেরাইয়ের পর তা পাশের ইট ভাটাসমূহে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আজমল হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, নওয়াবেঁকীর সবগুলো করাতকল অনুমোদনহীন। দিনের তুলনায় রাতে এখানে বেশি কাঠ চেরাই হয়।
করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুর আহম্মদ আলী বলেন, নতুন করে গড়ে ওঠা কয়েকটি করাতকলের অনুমতি নেই। নানা কারণে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। ১৬ ডিসেম্বর ও ২৬ মার্চের মতো জাতীয় দিবসগুলোতে প্রশাসনকে কিছু ‘খরচাপাতি’ দিয়ে কোনো রকমে আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি। সুন্দরবনের কোনো কাঠ এখানে চেরাইয়ের জন্য আসে না।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এ কে এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী জানান, সামাজিক বনবিভাগ এসব করাতকলের অনুমোদন দিয়ে থাকে। সুন্দরবন কাছে হলেও কড়া তদারকির কারণে সেখানে সুন্দরবনের কাঠ যাওয়ার সুযোগ কেউ পায় না।
সামাজিক বনবিভাগের শ্যামনগর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি তিনি একটি অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নওয়াবেঁকীতে সম্প্রতি গড়ে ওঠা কয়েকটি করাতকলের অনুমতি নেই নিশ্চিত করে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসব করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ক্ষমতা রাখেন, যা আমার নেই।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ