রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সংযোগ ১৪ খাল খননে দেবহাটা সহ ৩ উপজেলায় অর্থনীতিক সম্ভবনা, নানা প্রতিকূলতায় এগিয়ে চলেছে মরিচ্চাপ খনন কাজ

আরো খবর

দেবহাটা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি : নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে মরিচ্চাপ খাল খনন কাজ। মরিচ্চাপ সহ সংযুক্ত ১৪ খাল খননে সাতক্ষীরার সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, দেবহাটা উপজেলা উপকৃত হবে। এসব এলাকার কৃষি, মৎস্য সহ অর্থ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় এসব খাল পলি জমে ও দখলকারীদের কবলে পড়ে নব্যতা হারিয়েছে। কিন্তু সরকারী ভাবে এসব খাল খনন উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করায় অনেক স্থানে নান প্রতিকূলতায় পড়তে হচ্ছে। এ কাজের অংশ হিসাবে সাতক্ষীরা মরিচ্চাপ খাল খনন কাজ চলমান রয়েছে। আর এই খনন কাজ করতে যেয়ে বাধার মুখে পড়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হতে বসেছে। এমনকি পদে পদে দখলদার দের বাধার মুখে পড় গতি হারানোর উপক্রম হয়েছে। খালটি দখল করে তৈরি হয়েছে ইট ভাটা ও আবাসন প্রকল্প। কোথাও কোথাও আবার খালের দু-ধার দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে জনবসতি। এতে পলি জমে ভরাট হওয়া খাল নকশা অনুযায়ী মিল নেই। ভরাট হওয়ার কারনে বছরে ছয় মাস এই খালের অববাহিকার মানুষকে পানি বন্দি থাকতে হয়। যার ফলে পানি প্রবাহ বাড়াতে সরকার ২৯ কিলোমিটার মরিচ্চাপ খাল খননের জন্য ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। ইতিমধ্যে খাল খনন কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। আগামি ৩০ জুনের মধ্যে খাল খনন কাজ শেষ হবে। আর স্থানীয়রা বলছে এই খাল খনন হলে তারা স্থায়ী জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের বাকাল মোড় থেকে আশাশুনি অভিমুখে খোলপেটুয়া নদী পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার মরিচ্চাপ খাল। পলি জমে এই খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায়। বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশন না হওয়াতে বছরে ৬ মাস এই এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতায় ভাগে বিভিন্ন এলাকার মানুষ। সরকার জলবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা পেতে এই খাল খননের জন্য ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জলবদ্ধতায় ভূগছে। বর্ষা এলেই তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয় অন্য কোন জায়গায়। গরু, ছাগল পালন করতে পারে না। মাঠে ফসল হয় না। এবার খাল খনন হচ্ছে। খালের তলদেশ বেশ গভীর হচ্ছে। সঠিক ভাবে মরিচ্চাপ খাল খনন হলে তারা জলবদ্ধতার হাত থেকে রেহায় পাবে।
খনন কাজে নিয়োজিত কামাল হোসেন, মিলন রহমান ও আক্তার হোসেন জানান, এই খাল খনন করতে তাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। পলি জমে খাল ভরাট হয়েছে আর নদীর চর দখল করে গড়ে উঠেছে আবাসন প্রকল্প। কিছু ু খাল দখল করে ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। আবার খালের দু’ধার দখল করে ছিন্নমুল মানুষজন ঘনবসতি গড়ে তুলেছে। বাকাল এলাকায় নকশা অনুযায়ী খাল নেই। খাল যে পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সেটা ব্যক্তি মালিকানা জমি। এসব সরিয়ে খাল খনন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। এমনকি খাল খনন করা মাটি রাখার জায়গা নেই।
ব্যাংদহা এলাকার নুরুল ইসলাম ও আব্দুর রউফ জানান, সরকারের দেওয়া আবাসন প্রকল্প রক্ষা করতে হয়েছে। এই আবাসন প্রকল্প এলাকায় খাল ঘুরিয়ে দিয়ে অন্য পাশ দিয়ে কাটতে হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছে যতদুর সম্ভব খালের চর থেকে মানুষকে সরিয়ে খনন কাজ শুরু হয়েছে। নকশা অনুযায়ী খাল না থাকায় কিছুটা জটিল হয়েছে। যে ভাবে খাল বয়ে গেছে সেই ভাবে খনন কাজ চলছে । ইতিমধ্যে খননের কাজ ৮০ ভাগ এগিয়ে গেছে। এই কাজের জন্য ২৫ কোট টাকা মুলধনে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ বরাদ্ধারে টাকা নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। আর খাল খনন হলে এই এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাবে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ নির্বাহি প্রকৌশলী, আবুল খায়ের জানান, পুরো মরিচ্চাপ খাল খনন করা হচ্ছে। এর সাথে সংযোগযুক্ত আর ১৪ খাল খনন করা হবে। ইতিমধ্যে সংযোগযুক্ত ৪ টি খাল খনন করা হয়েছে। এই খাল খনন করা হলে সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, দেবহাটা উপজেলা উপকৃত হবে। মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এগিয়ে যাবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ