এনামুল হাসান (কেশবপুর):যশোরের কেশবপুরে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্মারক গ্রন্থ ‘সনেট’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। প্রধান আলোচক হিসেবে কবির জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোকপাত করেন সরকারি এম.এম কলেজ সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান,যশোর সরকারি মহিলা কলেজ সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন,মধুসূদন একাডেমি পরিচালক কবি খসরু পারভেজ।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মোঃ রফিকুল হাসান এবং কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুকদেব রায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
শনিবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীতে কবির আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর কবির স্মৃতিবিজড়িত ‘মধু মঞ্চে’ তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর বিশেষ আলোচনা সভা, প্রবন্ধ উপস্থাপন, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবছর এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘মধুমেলা’র আয়োজন থাকলেও, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার জন্মদিনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে সংক্ষিপ্ত পরিসরে।
মধুমেলা স্থগিতের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছর সাগরদাঁড়িতে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য মধুমেলা অনুষ্ঠিত হলেও ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তার স্বার্থে এবার মেলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে পুনরায় জমকালো আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা আয়োজন করা হবে।
এবারের জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ৮ জন প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়ির জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবীর এই সন্তান বাংলা কাব্যসাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে চিরবিদায় নেন বাংলা সাহিত্যের এই মহাপুরুষ।

