শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় আমের বম্পার ফলন, দাম নিয়ে হতাশ চাষীরা 

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায়  আমের বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশ চাষীরা।  আম সংগ্রহের শুরুতেই বাজারে আমের সরবরাহ গত বারের তুলনায় কয়েক গুন। সরকারী কঠোর নির্দেশনার  আনুষ্ঠানিক ভাবে আম পাড়ার ভরা মৌসুমে দাম নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে  ঘুর্নিঝড় মোখার সংকেতের কারনে চাষীরা আম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যে কারনে বাজারে সব ধরনের আমের দাম ছিল গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গতকাল থেকে শুরু করে হিমসাগর গোপাল ভোগ বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪০।
টাকা দরে। এনিয়ে চাষী সহ ব্যাবসায়ীদের  মূলধন বাঁচানোই যেন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি বাজারে আমের এই দাম অব্যহত থাকলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন আমচাষী ও ব্যবসায়িরা। জেলা  প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষনা  অনুযায়ী   গোবন্দিভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাস সহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহের দিন ছিল ১২ মে। যে কারণে চাষীরা বাগানের আম পাড়তে পারেনি।ঘুর্নিঝড় মোখার আক্রমনের কারনে আমচাষীরা দ্রুত আম ভাঙতে শুরু করে যে কারনে বাজারে  সরবরাহ বেড়ে গেছে কয়েকগুন।
যে কারণে বর্তমানে এখানকার হাট বাজার গুলোতে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি আমদানি হওয়ায় আমের দরপতন হয়েছে বলে জানা যায়।  পাটকেলঘাটা এলাকার  আম ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম বলেন,দাম বেশি পাওয়ার আসায় গতকাল  আড়তে ৬০ মণ আম নিয়ে আসেন। কিন্তু জেলার বড় বাজারে এসেই হতাশ হয়েছেন আমের দাম দেখে।  মৌসুমের প্রথম দিকে এই বড় বাজারের আড়তে গোবিন্দভোগ আম বিক্রি করেছিলেন মণ প্রতি ২ হাজার ৯শত টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে।
শুক্রবার একই বাজারে গোবিন্দভোগ বিক্রি করেছেন ১ হাজার ২শত টাকা মণ দরে। বোম্বাই ও গোলাপখাস আমও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেক দামে বিক্রি করেছেন। বাগান ক্রয়, পরিচর্যা, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মণ গোবিন্দভোগ আম উৎপাদন খরচ পড়েছে কমপক্ষে ২ হাজার টাকার উপরে। সেখানে বাজারে প্রতি মণ আম বিক্রি হয়েছে ১ হাজার  থেকে ১হাজার ২শত ’টাকা দরে। ফলে বাজারে এমন দাম গেলে ৮ টি বাগানে তার কয়েক লক্ষ টাকা লোকসান হবে। অপর আমচাষী মোকলেছুর রনিগাজী জানান গোপাল ভোগ আম ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি যা গত বছরের তুলনায অর্ধেকেরও কম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , এখানকার বাজারের ছোট-বড় সব আড়তে আমে সয়লাব হয়ে গেছে। একদিনেই কয়েক হাজার মণ আম উঠলেও ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল খুবই কম। যে কারণে ভালো দাম পাচ্ছেন না চাষী বা ব্যবসায়িরা। গত বছরের তুলনায় সব ধরনের আম গত দুই দিনে অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে আড়তগুলোয়। অন্তত ১৫-১৬ জাতের আম উৎপাদন হয়। যা এলাকার  চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে বলে জানা যায়। তালা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর আমবাগান রয়েছে। গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলামখাস, বৈশাখীসহ বিভিন্ন জাতের আম আজ থেকে পাড়া শুরু হয়েছে। তবে আমের দাম কম হওয়ার কারনে লোকসান পেহাতে হতে পারে চাষী সহ ব্যাবসায়ীদের।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো.হুমায়ন কবির জানান, সাতক্ষীরা গোটা দেশ ছাড়িয়ে দেশের  বাইরেও আমের জন্য বিখ্যাত। বছরে শুরুতে নির্ধারিত সময়ে আগে আমভাঙা সহ বিষমুক্ত আম বাজারজাত করা ছিল মুল লক্ষ। জেলায় প্রচুর আমের উৎপাদন হয়েছে।  বর্তমানে ঝড়ে কারনে বাজারে হঠাৎ আম বৃদ্ধির কারনে দাম কিছুটা কমে গেছে। তবে উৎপাদনের  লক্ষমাত্রা অনুযায়ী আমের দাম কিছু আরো বাড়তে পারে বলে তিনি সঙ্খা করেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ