শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পৃথক রায়ে ২জনের যাবজ্জীবন 

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায়  হত্যা ও ধর্ষণের পৃথক দুটি মামলায় দুই ব্যক্তিকে যাজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত।
বুধবার (১৯জুলাই)  কলারোয়ার কিশোরী সুজ্যোতি হত্যা মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আশাশুনির একটি ধর্ষণ মামলায় জেলা   দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম আল রাজী এই রায় দেন।
হত্যা মামলায়  সাজাপ্রাপ্ত আব্দুর রহমান কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। অপরদিকে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আশাশুনির মনিপুর গ্রামের মোকছেদ আলী ঢালীর ছেলে রবিউল ইসলাম ঢালী (৪৫) কে ধর্ষণের অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।সাতক্ষীরা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মোছাঃ সানজিদা হোসেন সুজ্যোতি (১৩) নামে এক কিশোরীকে হত্যার দায়ে তার প্রেমিক আব্দুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। মামলা সুত্রে জানা গেছে,  কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের সোহরাব হোসেনের স্ত্রী লাইলী পারভীন ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ করতো। তার মেয়ে সানজিদা হোসেন সুজ্যোতি গ্রামে দাদা-দাদীর কাছে থেকে লেখাপড়া করতো। ২০২২ সালের ২৭ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় সুজ্যোতি। রাতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
একপর্যায়ে ২৮ মার্চ ভোরে একই গ্রামের বিলের মধ্যে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।ঘটনায় সানজিদা হোসেন সুজ্যোতির মা লাইলী পারভীন ঢাকা থেকে ওইদিনই ফিরে তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় সানজিদা হোসেন সুজ্যোতির প্রেমিক আব্দুর রহমানকে ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সাথে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।
মামলায় স্বাক্ষীদের  সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ  প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি আব্দুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদন্ড দেন।
অন্যদিকে অপর মামলা সুত্রে জানা যায়, আশাশুনির মনিপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তি ২০১০ সালের ২৯ জুন তার কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন মনিপুর গ্রামের মোকছেদ আলী ঢালীর ছেলে রবিউল ইসলাম ঢালী (৪৫) তার মেয়েকে প্রায় কু-প্রস্তাব দিত। মামলা দায়েরের ৪/৫ মাস পূর্বে একদিন সন্ধ্যা ৭ টার সময় বাদীর মেয়ে (১৯) ঘেরে যাওয়ার পথে আসামী তাকে জাপটে ধরে পার্শ্ববর্তী মুছা মোল্লার পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে বাদীর কন্যা অন্তসত্বা হয়ে পড়ে। এব্যাপরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ৫ জনের স্বাক্ষ্য উপস্থাপন করে।
আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। তবে  আসামী পালাতক রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ