ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:সাতক্ষীরায় নারীদের হাতে খড় ও খেজুর পাতার তৈরি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়। রপ্তানির মাধ্যমে দেশে আসছে বিদেশী মুদ্রা। খেজুর পাতা ও গম গাছের পাতা দিয়ে বিভিন্ন উৎপাদিত দৃষ্টিনন্দন পণ্যসামগ্রী ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হচ্ছে। স্বাবলম্বী হচ্ছে স্থানীয় দরিদ্র নারীরা। সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের নারীরা খড় ও খেজুর পাতার বিভিন্ন প্রকার দৃষ্টিনন্দন এসব পণ্যসামগ্রী করছে। পণ্যগুলো রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের জামার্ন, ইতালী, স্পেন, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আমেরিকায়।
নারীদের হাতে স্থানীয় কাঁচামালে উৎপাদিত এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে শোপিস, শপিং বাস্কেট, রাউন্ড বাস্কেট, শ্রাবনী ঢাকনা বাস্কেট, স্কয়ার বাস্কেট, মিনি বাস্কেট, বালতি, সোর্ড, ওয়েষ্ট বাস্কেট, মিরা, ডালি, টেবিলম্যাট ও রাউন্ডম্যাট।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোপিনাথপুর অবস্থিত বেসরকারি সংস্থা ঋশিল্পী (প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসা কেন্দ্র) পণ্য উৎপাদনকারী নারীদের নিকট থেকে অন্তত বিগত আড়াই দশক এসব পণ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। এর ফলে জেলার অন্তত সহ¯্রাধিক দরিদ্র নারী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়েছে।
সরেজমিনে ার গোপিনাথপুর গ্রামে দেখা যায়, এই গ্রামের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী সংসারের কাজের পাশাাপাশি খড় আর খেজুর পাতার দিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন সব পণ্যসামগ্রী বাড়িতে বসে তৈরি করছে।
কথা হয় গোপিনাথপুর গ্রামের গৃহবর্ধ রিক্তা সরকার, সন্ধ্যা সরকার ও মিনতি রানীর সাথে। তারা জানান, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে খড় এবং খেজুর পাতা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রী তৈরি করছেন বাড়িতে বসে। ঋশিল্পী থেকে খড়, পাতা ও গম গাছ নিয়ে আসেন। সপ্তাহে উৎপাদিত পণ্য ঋশিল্পীতে দিয়ে টাকা নিয়ে আসেন। সাংসারিক কাজ করেও প্রতি মাসে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা উপার্জন হয় তাদের। এসব পণ্য ঋশিল্পী প্তানিকারক পশ্চিমা দেশে রপ্তানি করে।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের প্রডাক্ট ম্যানেজার ও গ্রুপ-কোডিনেটর সাগরিকা মন্ডল জানান, সাতক্ষীরার প্রায় ৬০০ শত নারী খড়, খেজুর ও গম গাছের পাতার বিভিন্ন প্রকার পণ্য তৈরি করে তাদের প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। এরপর এসব পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। এই কাজে নিয়জিত একেকজন নারী সাংসারিক কার্জকর্ম সামলেও মাসে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা উপার্জন করেন। তিনি আরও বলেন, বছরে ২৮ থেকে ৩০ কন্টেইনার খড়, খেজুর পাতা ও গম গাছের পণ্য রপ্তানি করা হয়ে থাকে। যার আনুমানিক রপ্তানি মুল্য ২৫ থেকে ২৬ কোটি টাকা।
ঋশিল্পী ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুন্সি খায়রুল ইসলাম জানান, খড়, খেজুর পাতা ও গম গাছের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রায় দ্ইু দশকের বেশি সময় ধরে রপ্তানি করে আসছে তার প্রতিষ্ঠানটি। সাতক্ষীরার নারীদের হাতে বুনন এসব পণ্য সামগ্রী ইউরোপের জার্মান, ইতালী, স্পেন, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আমেরিকায় ব্যাপক চাহিদা। বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমানে রপ্তানি করা হয়।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক একে.এম শফিউল আযম জানান, প্রান্তিক নারীদের স্বাবলম্বি করে তুলতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে অনেক নারী উদ্যোক্ত তৈরি হচ্ছে। এসব নারী হস্তশিল্পের কাজ করে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন। তবে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোপিনাথপুরের নারীদের হাতে তৈরি খড়, খেজুর পাতা ও গমে গাছ দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এসব পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশীক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে দেশে।
জেলা প্রসাশক মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির জানান, এই জেলায় নারী উদ্যোক্তা বাড়ছে। এখানে হস্তশিল্পের অনেক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করছেন নারীরা। সরকারের পক্ষ থেকেও নারীদের স্বাবলিম্ব করে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যা চলমান। এাছাড়া সাতক্ষীরা থেকে চিংড়ি, কাঁকড়া, মধু, আম, মাটির টালিসহ অন্যান্য পন্য রপ্তানি হয়ে থাকে। এসব আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে দীর্ঘ সময় ধরে।

