শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা, সাবেক এমপি হাবিবসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

আরো খবর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ  তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের পৃথক দুটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ চারজনের যাবজ্জীবন সশ্রমকারাদণ্ড সহ ৪৪ জনের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাতক্ষীরা স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল  জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। বর্তমানে  মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৪৮ জনের মধ্যে ১৩ জন পলাতক রয়েছেন।এদিকে মামলার রায়কে ঘিরে  সকালে প্রশাসনের  কঠোর নিরাপর্তায়  জেলা কারাগার থেকে ৩৪জন আসামীকে আদলতের কাঠগড়ায়  হাজির করা হয়।
পরে সকাল ১০টায় বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল রায়  শোনান। রায়ে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের এফ ধারায় বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রঞ্জু ও পলাতক আসামী আব্দুল কাদের বাচ্চু, রিপন প্রত্যেককে জাবজ্জীবন  সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় । অপর ৪৪জন আসামীর প্রত্যেককে সাত বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন  সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড, মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. ফাহিমুল হক কিসলু, অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. সৈয়দ জিয়াউর রহমান প্রমুখ। অন্যদিকে আসামীপক্ষের মামলাটি পরিচালনা করেন  অ্যাড. আব্দুল মজিদ , অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড. শাহানারা বকুল প্রমুখ। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে  আইনজীবী অ্যাড. শাহানার বকুল বলেন, এ রায়ে তারা খুশী নন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কাগজ হাতে পেলে পরবর্তীতে ন্যায় বিচারের জন্য  উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।
প্রসঙ্গতঃ  ২০০২ সালের ৩০ আগষ্ট সকাল ১০টার দিকে তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন। সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার উপর তৎকালিন সাংসদ হাবিবুল ইসলামের হাবিব ও বিএনপি নেতা রঞ্জুর নির্দেশে বিএনপি ও যুবদলের নেতা কর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহি বাস(সাতক্ষীরা-জ-০৪-০০২৯) রাস্তার উপর আড় করে দিয়ে তার গাড়ি বহরে হামলা চালান। এ সময় ডজন থানেক আলীগ নেতা সহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়।ওই সময়  কলারোয়া থানা মামলা না নেওয়ায় ২ সেপ্টেম্বর কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমাণ্ডার মোসলেমউদ্দিন বাদি হয়ে ২৭ জনের নাম উলে­খসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৭৫ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনা সঠিক নয় বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত মামলা খারিজ করে দিলে বাদি জজ কোর্টে রিভিশন করেন।  পরবর্তীতে  হাইকোর্ট ২০১৩ সালে ওই মামলা আমলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এসে পৌঁছায়। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর শুনানী শেষ অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাড়ে ছয় মাস পর ২০১৬ সালের ৪ মে  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  আদালতে ৫০ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৪ ফেব্র“য়ারি চার্জশীটভুক্ত ৫০জনকে চার থেকে ১০ বছর মেয়াদে সাজা দেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ হুমায়ুন কবীর।
অপরদিকে সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল -৩ এ মামলার অপর দুটি অংশে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের এসটিসি ২০৭/১৫, ২০৮/১৫ এর মামলায় ১৫ জন সাক্ষী দেন। সম্প্রতি ১২ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শেষে আজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল রায় এর জন্য দিন ধার্য করেন। এ দুটি মামলায় সম্প্রতি ইচ্চ আদালত থেকে অ্যাড. আব্দুস সাত্তার, অ্যাড. আব্দুস সামাদ, কামরুল ইসলাম ও শেলী জামিনে মুক্তি পান। মামলায়  সাজাপ্রাপ্ত ৪৮ জনের মধ্যে ১৩ জন পলাতক রয়েছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ