সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের বরখাস্তকৃত স্টোরকিপার এ কে এম ফজলুল হক ও তাঁর স্ত্রী খায়রুন নেছার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদক। মঙ্গলবার(১১জুলাই) সকালে খুলনা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ফজলুল হক সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ইছাকুড় গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমীন জানান, ফজলুল হক সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে চাকুরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তাঁর স্ত্রী খায়রুন নেছাও স্বামীর অবৈধ আয় দ্বারা অর্জিত সম্পদ নিজ নামে গ্রহণ করে অপরাধে সহায়তা করেছেন। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৫১ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন ফজলুল হক। তিনি আরো জানান, ফজলুল হকের স্ত্রী খায়রুন নেছা একজন গৃহিণী। সে নিজেকে মাছ চাষি ও পশু খাদ্যের ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এতে প্রমানিত হয়েছে তাঁর নামে থাকা সম্পদ তাঁর স্বামীর দুর্নীতির টাকায় কেনা। খায়রুন নেছার নামে থাকা ৪তলা বাড়িটির মূল্য তারা সম্পদ বিবরণীতে ৬৩ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে । কিন্তু অনুসন্ধানে মূল্য পাওয়া গেছে ৯৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এছাড়া তাঁর স্বামী ফজলুল হক ২০১২ সালে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে নিজ নামে জেলা শহরের পলাশপোল মৌজায় সেমিপাকা ৩ কক্ষবিশিষ্ট একটি বাড়ি কেনেন, যার রেজিস্ট্রি খরচসহ দলিল মূল্য ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি সম্পদ বিবরণীতে এর মূল্য দেখিয়েছেন ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিনি ৮৪ হাজার টাকা গোপন করেছেন। এ ছাড়াও ফজলুল তাঁর নিজ নামে এবং তাঁর ছেলেমেয়ের নামে থাকা ১৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এসব অপরাধে কারনে তার বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন আইনের ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারায় এবং দূর্নিতী প্রতিরোধে১৯৪৭ সালের ৫(২)ধারায় এবং ১০৯ধারায় অপরাধ সংগঠিত করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দ্বায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

