রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

সাতক্ষীরায় ১১ দফা দাবিতে পুলিশ সদস্যদের কর্মবিরতি ও শোক র‍্যালি 

আরো খবর

 ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সে ১১ দফা দাবিতে পুলিশ সদস্যদের কর্মবিরতি ও শোক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকালে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সে সমন্বয় কমিটির দেওয়া ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন পুলিশ সদস্যরা তবে কবে নাগাদ তারা কাজে যোগ দেবেন সে বিষয়টি এখনও ‘অজানা’।

বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির এই কর্মসূচিতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পুলিশ অফিসারদের বিভিন্ন অন্যায়য়ের কথা তুলে ধরে তাদের শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা কারো শত্রু বা প্রতিপক্ষ না। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করি। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হই। আমরা জনতার পুলিশ হতে চাই। আমরা কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কারও পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চাই না। আপনারা যারা পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় বা পুলিশের ওপর আক্রমণ করছেন, তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের এভাবে আর আক্রমণ করবেন না। আমরা আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। আমরা রাস্তায় বের হতে পারি না। আমাদের সহকর্মীদের বিভিন্নভাবে হত্যা করা হচ্ছে। হত্যা করে তাদের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি।

এসময় পুলিশ সদস্যরা আরও বলেন, আমরা কারো শত্রু বা প্রতিপক্ষ না। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করি। আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত হই।আরো বলেন, আমরা জনতার পুলিশ হতে চাই। আমরা কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কারও পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চাই না। আপনারা যারা পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় বা পুলিশের ওপর আক্রমণ করতেছেন, তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের এভাবে আর আক্রমণ করবেন না। আমরা আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। আমরা রাস্তায় বের হতে পারি না। আমাদের সহকর্মীদের বিভিন্নভাবে হত্যা করা হচ্ছে। হত্যা করে তাদের লাশ ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে, পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। আমাদের দাবী না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলছ, চলবে।

দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে,

০১.ক) স্বাধীন কমিশন গঠন, পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করে দলীয় প্রভাব মুক্ত জনগনের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। আমরা যে রংয়ের ইউনিফর্ম পরিধান করে কলংকিত হলাম সেই পোষাকের রং পরিবর্তন করে কনস্টবল থেকে আইজি পর্যন্ত একই ড্রেসকোড হতে হবে।

খ) আমাদের সকল পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এর সাথে সাথে যে সকল সিনিয়ার অফিসাররা ক্ষমতা লোভি দালাল পুলিশ অফিসারদের কারণে আমাদের শতশত পুলিশ সদস্য ও সাধারণ ছাত্র জনতা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদেরকে গ্রেফতার করে অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বিচার করতে হবে ও তাদের অবৈধ সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।

০২.ক) চলমান সহিংসতায় যে সকল পুলিশ সদস্য আহত ও নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে, যে সকল সদস্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জানমালের নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকারের বিভাগীয় ব্যবস্থা অথবা হয়রানি করা যাবেনা।

খ) সকল পুলিশ সদস্যদের অন্যান্য সংস্থার চাকুরীর মতো শ্রম আইন অনুযায়ী ০৮ (আট) ঘন্টা কর্মঘন্টা নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যদি ০৮ (আট) ঘন্টার বেশি দায়িত্ব পালন করতে হয় তাহলে ওভার টাইম হিসাবে গন্য করতে হবে।

০৩. ইন্সপেক্টর থেকে ৬০% এবং ৪০% এএসপি পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে হবে। পদোন্নতির জটিলতা নিরসনের জন্য সকল পদে পদোন্নতির জন্য সুপার নিউমারারি চালু করতে হবে এবং নুন্যতম পুলিশ সুপার পর্যন্ত পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে। অধস্থন পুলিশ সদস্যদের টিএ/ডিএ বিল যথা সময়ে প্রদান করতে হবে ও সোর্সমানি প্রদান করতে হবে। ঝুকি ভাতা বেসিক এর ৭০% দিতে হবে এবং ফ্রেশমানি পুলিশ সদস্যের ব্যাংক হিসাবে দিতে হবে।

০৪. আমাদের সকল পুলিশ সদস্য ও পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত চিকিৎসা করা হলে তাহার ভাউচার অনুসারে কল্যাণ তহবিল থেকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপুরণ দিতে হবে।

০৫. ক) বিভাগীয় পদোন্নতির ক্ষেত্রে একবার পরিক্ষায় পাশ করার পরে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা এবং অধস্থনদের পদোন্নতির বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনে সুপার নিউমারারী পদ সৃজন করতে হবে।

খ) ওসি হিসাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিগত ১৫ (পনের) বছরে যারা সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের দায়িত্ব দিতে হবে এবং ওসি হিসাবে ০২ (দুই) বারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং ৫৪ (চুয়ান্ন) বছরের বয়সের সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে হবে।

০৬. অধস্থন পুলিশ সদস্যদের সাথে পিআরবি অনুসারে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরন করতে হবে, এবং ব্যক্তিগত কাজে কোন সদস্যকে ব্যবহার করা যাবেনা ও কন্সটেবল থেকে সকল পর্যায়ের অফিসারদের পোষ্টিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

০৭. সার্জেন্ট এবং সাব-ইন্সপেক্টরদেরকে পিএসসির অধীনে একই নিয়োগের মাধ্যমে সকল ইউনিটে পদায়ন করতে হবে এবং বর্তমানে কর্মরত সার্জেন্টদেরকে তদন্ত ক্ষমতা দিতে হবে ও এটিএসআইকে এএসআই (নিরস্ত্র) হিসাবে সমন্বয় করতে হবে। জনগনের স্বার্থে এবং সুষ্টু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগের অবৈধ রেকার বানিজ্য বন্ধ করা এবং মামলার টার্গেট প্রদান থেকে বিরত থাকতে হবে।

০৮.কমিউনিটি ব্যাংক এবং সকল কল্যাণ তহবিলের সু-স্পষ্ট হিসাব প্রতিবছর সকলকে প্রদান করতে হবে এবং লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার ৬% এর নিচেই নিয়েই আসতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যান ট্রাস্ট থেকে সমন্বয় করতে হবে।

০৯. ক) নবম গ্রেড থেকে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে ৬ষ্ঠ গ্রেড নিশ্চিত করতে হবে এবং একই পদে সর্বোচ্চ ০৬ (ছয়) বছরের মধ্যে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে।

খ) ইন্সপেক্টর থেকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চাকুরি হারালে সকলেই পেনশন সহ সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা পায় কিন্তু কনস্টবল থেকে এসআই পর্যন্ত এই সুবিধা দিতে হবে এবং সারা বাংলাদেশে যে সকল সদস্যদের বরখাস্ত করে রাখা হয়েছে তাদেরকে মানবিক কারনে বিবেচনা করতে হবে।

১০. ক) প্রত্যেক পুলিশ সদস্যরে প্রতি বছর ২০ (বিশ) দিন অর্জিত ছুটি বাধ্যতামূলক ভোগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। নৈমিত্তিক ছুটির পাশাপাশি ০২ (দুই) মাস

খ) প্রত্যেক পুলিশ সদস্য নিজ রেঞ্জে পর্যায়ক্রমে পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে এবং অধস্থন পুলিশ সদস্যদের ১০০% আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. পুলিশের সকল সদস্য সকল ইউনিটে চাকুরি করার সুযোগ রাখতে হবে (স্বায়ত্বশাসিত এবং টেকনিক্যাল) বলে কোন ইউনিট থাকবে না ও সবাইকে সব ইউনিটে বদলীর সুযোগ থাকতে হবে। পুলিশ সুপারের নিচে বডিগার্ড, অর্ডালি নিয়ম বন্ধ করতে হবে।

আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে না করলে সমগ্র বাংলাদেশে পুলিশের কর্মবিরতি চলমান থাকবে বলে জানান বিক্ষোভকারী পুলিশ সদস্যরা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ