ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ও শ্রীরামপুরে লাবণ্যবতী নদীর ওপর ব্রিজটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিধি জীবনের ঝুকি নিয়ে পার হচ্ছে মানুষ। দুই পারের মানুষের চলাচলে ভোগান্তির সীমা নেই। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের। এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়েই শিশুদের প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যেতে হয়। দীর্ঘদিন এই অবস্থা বিরাজ করলেও এলাকার জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।
সরজমিনে গতকাল রবিবার কুলিয়া ও শ্রীরামপুর এলাকায় ব্রিজটিতে যেয়ে দেখা যায়। লাবন্যবর্তী নদীর কুলিয়া পারটি দেবহাটা উপজেলার অংশ এবং শ্রীরামপুর অংশটি সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের অংশ। এটি এখন আর পারাপারের জন্য কোনো ব্রিজ আর নেই। তৈরি হয়েছে মরণ ফাঁদ। তারপরও এলাকার মানুষকে পারাপারের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চচলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবয়ব নিয়ে সাতক্ষীরা জেলার দেদবহাটা উপজেলার কুলিয়া-শ্রীরামপুর’র লাবণ্যবতী নদীর ওপর শ্রীরামপুর বাজার সংলগ্ন নির্মিত পুরানো কাঠের ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। যেকোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পাওে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। হতে পারে জীবনহানি। ব্রিজটি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী স্কুল ও কলেজের শিার্থীসহ শ্রীরামপুর বাজারে আসা হাজার হাজার মানুষের বিগত প্রায় তিন বছর এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এদিকে, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিজটি পার হতে গিয়ে অনেকেই নিচে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ এই কাঠের ব্রিজ পার হতে গিয়ে হাত-পা ভেঙেছে অনেকের। অনেকেই আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছে
ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদেও ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ভোমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নেছারুল্লাহ আল মামুন জানান, ১৯৯৫ সালে নির্মিত এই কাঠের ব্রিজটি এখষন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ব্রিজটি প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও গেলেও মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ব্রিজ দিয়ে নদী পার হতে যেয়ে প্রতিনিয়ত কাঠ ধ্বসে কাঠ ভেঙে নদীর পানিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। ব্রিজটির অধিকাংশ অংশ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি পুরোটাই নিচের দিকে বাঁকা হয়ে ঝুঁকে পড়েছে।
শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আরিজুল ইসলামসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, কয়েক বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই ব্রিজটি যাতায়াত করে। গত তিন বছর ধরে এলাকার মানুষ অনেক কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটির ওপর দিয়ে শ্রীরামপুর বাজারে সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। আমরা ছেলেমেয়েদেও নিয়ে যাতায়াত করতে পারছিছ না। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
ব্রিজটি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ ব্রিজটি অতি দ্রুত সংস্কার করে স্থানীয় জনগণ এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে জনপ্রতিনিধি, দুই উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
